গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ: , মাঝরাতে লাইভে যা বললেন পরীমণি

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:০১ | আপডেট : ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:১৪

ঢালিউডের আলোচিত ও সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিনেত্রীর এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী পিংকি আক্তারকে মারধর করেন তিনি।
এই ঘটনায় রাজধানীর ভাটার থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন ওই ভুক্তভোগী। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ এপ্রিল)রাতে ফেসবুক লাইভে আসেন পরীমণি। তুলে ধরেন নিজের বক্তব্য। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলার কথা জানান অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার বিগত জীবনযাপন দেখলেই বুঝবেন, কোনো আত্মীয়স্বজন নিয়ে আমার জীবনযাপন না, আমার পুরো পরিবারটাই হলো আমার স্টাফদের নিয়ে। বিভিন্ন বিশেষ দিবসে তাদের নিয়ে লেখালেখি করতাম। মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে যা-ই বলেন না কেন, কারণ আমি তাদের নিয়েই থাকি। সেখানে একজন আমার গৃহকর্মী, যে একমাসও হয়নি আসলে... সে দাবি করতেই পারে (গৃহকর্মী হিসেবে), তবে আমি বলব সে আমার গৃহকর্মী না।’
এরপর বলেন, ‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে, কিন্তু দিতে চাচ্ছি না কেন জানেন, কারণ আমি আইনের ওপর শ্রদ্ধাশীল।’
পরীর কথায়, ‘আমরা কি একটু ওয়েট করতে পারতাম না যারা মিডিয়াকর্মী ছিলাম? তারা আমাকে যেভাবে টর্চারটা করল, যেভাবে ফলাও করে ওই নিউজটা করা হলো, যেভাবে তার ইন্টারভিউ করা হলো; তার মানে কি আমরা মিডিয়াকর্মী হয়ে তাকে প্রিভিলেজ (বেশি সুবিধা) দিচ্ছি না? যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে জিডি করলেই সাথে সাথে এটা জাস্টিফাই হয়ে যাবে? এতে আমি ছোট হয়েছি বা বড় হয়েছি তা না, আমি যদি অন্যায় করি ডেফিনেটলি আমার শাস্তি পাওয়া উচিত। যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে, কিন্তু সেটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই আপনি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দেবেন?’
এ সময় সংবাদকর্মীদের পরীমণি বলেন, ‘সন্ধ্যা কিংবা রাতে এটা করতে পারতেন! কিন্তু একটা বড় পত্রিকা আপনি কীভাবে রাত ১২টার সময় এই নিউজ করেন যে, তাদের (পুলিশ) সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি তো আমার বাসায়, আমি কি পালিয়ে গেছি? আমি কোনো অপরাধ করেছিলাম? এই কথাগুলো কেন আসছে আমি জানি না, আসলে আপনারা আমাতে বাধ্য করেছেন।’
এরপর যোগ করেন, ‘আচ্ছা, আপনারা এত মিডিয়া কীভাবে জানেন যে এতটা সাধারণ ডায়েরি হলো? আপনাদের মনে হয় না এটার মধ্যে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। মানে একবারও কেন মনে হলো না আপনাদের! দেখেন, কেঁচো খুঁজতে না আবার সাপ বেরিয়ে যায়! আমি তো অনেক কিছু নিয়েই মুখ বুজে ছিলাম বা মুখ বুজে আছি। আমি আসলে থাকতেও চাই তা-ই। আমার দুই বাচ্চা, আমার এই ফ্যামিলি, আমার এই সুখ-শান্তি, আমার কাজ, আমার জীবনযাপন এই নিয়ে থাকতে চাই।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমার বাসায় তো ৯ বছর ধরে একজন কাজ করে। আমার যে ড্রাইভার, উনি ৪ বছর ধরে আমার বাসায় কাজ করে। তার আগের ড্রাইভার ছিল সাড়ে ৪ বছর। এ রকম বহু মানুষ আমার বাসায় বছরের পর বছর কাজ করে, কই তারা তো কোনো অভিযোগ করল না?’
এর আগে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিয়ে নায়িকা বলেছিলেন, ‘এর কোনো সত্যতা নেই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব কেউ করাচ্ছে। আশা করি, পুলিশ এর সত্যতা বের করবে।’
তিনি যোগ করেছিলেন, ‘একজন তাকে কাজের জন্য আমার বাসায় দিয়েছিল। কিন্তু উনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। ঠিক মতো হাটতে পারে না। এ অবস্থায় তাকে বলি কি করে কাজ করবেন। তখন আমাকে বলে—আমি অসুস্থ তাই কেউ কাজে নেয় না। শুনেছি, আপনি অনেক ভালো মানুষ। আমাকে একটু দয়া করুন। মানবিক বিষয় চিন্তা করে আমার ছোট বাচ্চার জন্য তাকে রেখেছি কারণ, ওর কোনো ভারি কাজ নেই।’
সবশেষ তিনি বলেছিলেন, ‘কিছুদিন না যেতেই একের পর এক সমস্যা বলে টাকা চাইত। বিষয়টা আমার কাছে সুবিধার মনে হয়নি। যে আমাকে দিয়েছিল তাকে নিয়ে যেতে বলি। মাত্র ৩৭ দিন আমার বাসায় ছিল। তারপরও দুই মাসের পুরো বেতন দিয়েছি। নতুন পোশাক দিয়েছি। তার ফল এই জিডি।’
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত