ঈদের পর কমেছে মাংসের দাম, তবে চড়া মাছ ও সবজির বাজার

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:০৭ | আপডেট : ৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:০৬

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকায় মানুষের ফিরতি ঢল শুরু হয়েছে, এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীর বাজারগুলোর চিত্রও পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। বাজারে ক্রেতাদের সংখ্যা বেড়েছে, তবে বেশিরভাগ দোকানপাট এখনও বন্ধ, যার ফলে কিছু পণ্যের সরবরাহ সীমিত হয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঈদের পর চাহিদা কম থাকায় মুরগি এবং গরুর মাংসের দাম কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকার বাড্ডা, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।বাজারে মাংসের দাম কমেছে, তবে কিছু সবজির সরবরাহ কম থাকার কারণে তাদের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে, মাছের সরবরাহ সীমিত থাকায় কিছু মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে চিংড়ি মাছ সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির কারণে এখনো অনেকেই ঢাকায় ফিরেননি, তাই বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম এবং বেচাকেনাও সেভাবে হচ্ছে না। তবে আগামীকাল (শনিবার) থেকে বাজারে পুরোনো চিত্র ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদের আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল প্রতি কেজি ২৪০ টাকা, যা এখন কমে ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও ৩২০-৩৩০ টাকা থেকে কমে ২৮০-৩১০ টাকায় নেমে এসেছে। গরুর মাংসের দামও ৭৫০-৮৫০ টাকার বদলে ৭০০-৭৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রামপুরা বাজারের মাংস বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের পর ঢাকায় ফেরার সংখ্যা কম, তাই চাহিদা কমে গেছে এবং এই কারণে তারা কিছুটা কম দামে মাংস বিক্রি করছেন।
ঈদের পর মাংসের চাহিদা কমে যাওয়ায় মাছের চাহিদা বেড়েছে, ফলে বেশিরভাগ মাছের দামও বাড়ছে। বর্তমানে পাঙাশ মাছ ২০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, সরপুঁটি ২২০-২৩৫ টাকা, এবং চাষের কই ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকৃতির রুই মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি, মাঝারি রুই ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, চিংড়ি, শিং, ট্যাংরা, শোল, এবং পুঁটি মাছের দামও বাড়তি। চাষের চিংড়ি ৬৫০-৭৫০ টাকা, নদীর চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা শ্যামল রাজবংশী বলেন, ঈদের পর মানুষ মাংসের পরিবর্তে মাছ বেশি কিনছেন, তাই সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে।
ঈদের পর বাজারে কাঁচামরিচ, টমেটো, পেঁপে, শসা, লেবু—সবজির দামও বেড়েছে। বর্তমানে টমেটো ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, শসা ৬০-৭০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি, এবং লেবু ৮-১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা নূর হোসেন জানিয়েছেন, চাষিরা ঈদের সময় মাঠে যাননি এবং পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত ছিল, তাই সরবরাহ কমেছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
বনশ্রী এলাকার গৃহিণী রোকসানা আক্তার বলেন, "মাংসের দাম কমেছে, এটা ভালো লাগছে, কিন্তু সবজির দাম দেখে চিন্তা হচ্ছে!" পূর্ব রামপুরা এলাকার বাসিন্দা শাহেদ হাসান বলেন, "ব্রয়লার মুরগি এখন সস্তা, কিন্তু মাছ আর সবজি মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।" কলেজছাত্রী তাসনিম জান্নাত বলেন, "মাঝারি লাউ ৭০ টাকা, আর ৪টি লেবু ৪০ টাকা! বাজেটটা ভাবতে হয় বাজারে আসার আগে।"
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের ছুটির পর ঢাকায় জনসমাগম কম থাকায় এবং পরিবহন ও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, তবে এটি সাময়িক। কিছুদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছ ও সবজির দামও কমে আসবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত