মাত্র একটি ফোনকল ভেস্তে দেয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ |  আপডেট  : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২

মাত্র একটি ফোনকল। তাতেই বদলে যায় ইসলামাবাদে শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সংলাপে বড় অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটিমাত্র ফোনকল তা বদলে দেয়।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই জেডি ভ্যান্স রোববার সকালে ফিরে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে এই অভিযোগ তোলেন। তিনি লিখেছেন, বৈঠকের সময় নেতানিয়াহুর ফোনকল আলোচনার দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক থেকে সরিয়ে ইসরাইলের স্বার্থের দিকে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসে এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করেছে, যা তারা যুদ্ধে অর্জন করতে পারেনি। আরাঘচি আরও বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই আলোচনায় ইরান সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই অংশ নেয়।

তিনি ভ্যান্সের বিদায়ের আগে সংবাদ সম্মেলনকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন। বলেন, ইরান এখনো নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রস্তুত। ওদিকে, ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ওই ফোনকলের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। এই আলোচনা ভেঙে পড়ার ঘটনা এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ঘটেছে, যখন এ মাসের শুরুতে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখন নতুন করে চাপের মুখে, আর এর মেয়াদ শেষ হতে বাকি মাত্র নয় দিন।

ইরানি কর্মকর্তারা এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। তেহরানের বর্ণনা অনুযায়ী, ওয়াশিংটন শুধু হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজেদের এবং মিত্রদের জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নয়, বরং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তরের দাবিও তোলে। ভ্যান্স এসব শর্তকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করে। হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ব্যর্থ এই আলোচনার পর তেল পরিবহন ও জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা আবার ফিরেছে। ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। সাময়িক কূটনৈতিক বিরতির ফলে তা ৯৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে এলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

তারা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির পর নতুন কোনো চুক্তি না হলে তেলের দাম আবার তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে। মার্চ মাস থেকে ইরান মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরুৎসাহিত করছে এবং প্রতি জাহাজ থেকে ১০ লাখ ডলারের বেশি ফি দাবি করছে- যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের জোট ব্যবস্থার ভেতরের ফাটলও সামনে নিয়ে এসেছে। স্পেন ও ইতালি প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানের জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। আরও কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশ ডনাল্ড ট্রাম্পের চাপ সত্ত্বেও যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইভাবে উপসাগরীয় মিত্ররাও পিছু হটেছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই একা হয়ে এগোচ্ছে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত