পঞ্চগড়ে আগাম বৃষ্টিপাত ক্ষতির মুখে ফসল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৫ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে প্রকৃতিতে বিরুপ প্রভাব, না গরম না শীত। ফাগুন পেরিয়ে চৈত্রের বিদায়। তবুও যেনো শীতের আমেজ রয়ে গেছে। ঝূঁকির মুখে কৃষি উৎপাদন।কৃষি বিভাগ জানায় আগাম বৃষ্টিতে বোরোতে সেচ দিতে হচ্ছেনা। ক্ষতি হয়েছে গম ভূট্রার।
অপরদিকে শীত বিদায় নিলেও কখনো কখনো ভোরে দেখা যায় কুয়াশার চেহারায় ভরে ওঠা পথ প্রান্তর। চৈত্রের দাপটে মানুষ যেখানে কাহিল হয়ে পড়ে । সেখানে তেমন গরম নেই বললেও চলে।মাস খানেক ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে পঞ্চগড়ে। তবে চৈত্রের প্রথমার্ধে কয়েকদিন সামান্য গরম পড়লেও তার দাপট তেমন ছিলনা।ফাগুন ও চৈত্রে হঠাৎ গরম অনুভূত হয় আবার কখনো শীত অনুভূত হয়।
সাম্প্রতিকালে পরিবেশ গুমোট হয়ে এক বৈচিত্র্য রুপ ধারন করে। আকাশে মেঘ আছে আবার নেই, কিন্তু পরিবেশ ছিল বির্বণময়। মনে হতে থাকে চারদিক কুয়াশা কিম্বা বিরুপময়। তারপরেই আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি হয়ে যায়।জেলার আটোয়ারী সহ নানা জায়গায় শিলাবৃষ্টি হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্ষেতখামার। নষ্ট হয় ফসলাদি। মাথায় হাত পড়ে কৃষকের। রবিবার সারাদিন না ছিল রোদ না ছিল আকাশ পরিষ্কার। দুপুরের পরে আকাশে মেঘ জমে পরিবেশে ভিন্নতায় রুপ নেয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতিতে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন। এতে ঝূকিঁতে কৃষি উৎপাদন। খবর নিয়ে জানা যায় চলতি গম মৌসুমে গমের উৎপাদন অন্যান্য বছরের চেয়ে মন্দা। ঘমের দানা পুষ্ঠহীন হয়েছে। কৃষকরা শঙ্কা নিয়ে তাদের ফসলাদি চাষাবাদ করছে। মাঠে রয়েছে মরিচ, ভূট্রা, শসা সহ সব রকম সবজি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কৃষি আসাদুন্নবী জানান, গত দুমাস আগে ঝড়ের কারণে কিছু কিছু জায়গায় ক্ষেতের গম নষ্ট হয়ে গেছে। তবে ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলায় গমের আবাদ বেড়েছে। এবারে আবাদ হয়েছে ৫২২০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। যা গতবার ছিল ৪১০০ হেক্টর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার মোট গমের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ১৮০ হেক্টর। যা গতবার ছিল ১৪ হাজার হেক্টর। এদিকে গমের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় কমেছে বোরোর আবাদ।গত বছর বোরোর আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমি। এবার হয়েছে ৩২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমি।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, এবারে আগাম বৃষ্টি হওয়ার কারণে বোরোতে তেমন একটা সেচ দিতে হচ্ছেনা। তবে ঝড়বৃষ্টির কারণে
গমের গাছ হেলে পড়ায় গমের দানা কোথাও কোথাও চিকন হয়েছে। পঞ্চগড়ের আবহাওয়া কিছুটা চেঞ্জ হচ্ছে। তবে সামনের দিনগুলোতে কি হয় তা এখুনি বলা যাবেনা।
তেতুঁলিয়া আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান জানান, রবিবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্ব্বোচ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বর্তমান গুমোট পরিস্থিতির কারন হিসেবে তিনি বলেন এখানকার আবহাওয়াটা সে রকম। শীতল বাতাসের কারণে শীত অনুভূত হয়। ১লা বৈশাখের পর বৃষ্টিপাতের সবম্ভনা বেশী। বৃষ্টিপাত হলেই গুমোট আবহাওয়া হয়তো কেটে যাবে। তিনি আরো জানান, চলতি মাসের ১০ তারিখে ২৪ ঘন্টায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত