প্রশাসন নীরব, জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি

আদমদীঘিতে সওজের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে অবাধে  

  আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ |  আপডেট  : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং খালের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে হারুনুর রশিদ ভোলা নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণকারী ওই ব্যক্তি ও তার ছেলে রাজনৈনিক ভাবে প্রভাবশালী হবার কারণে ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ঘটনাটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও অদ্যবধি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় জনমনে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় নওগাঁ-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ ধারে খাল ও সওজের সরকারি জায়গায় প্রকাশ্য দিবালোকে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন হারুনুর রশিদ ভোলা। জানা গেছে, হারুনুর রশিদ ভোলা বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু ওরফে রাজু খানের ঘনিষ্ঠজন হিসাবে দাপটের সাথে বিচরণ করতেন। সেই সুবাদে তিনি সরকারি ওই জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। আওয়ামী লীগের করুণ পতনের পর কাজটি বন্ধ রাখেন। এরপর তিনি ভোল পাল্টে বর্তমানে ক্ষমতাশীন সরকার দলের লোক বলে দাবী করছেন। কারণ হিসাবে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা বলেন হারুনর রশিদ ভোলার ছেলে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা। আর এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই অবাধে সরকারি জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী অবিলম্বে সরকারি জায়গায় চলা এই নির্মাণ কাজটি বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান। এবিষয়ে অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ ভোলার সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নির্মাণ কাজ করার সত্যতা স্বীকার করেন। 

এব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল হাসান মধু বলেন, কারো অন্যায় ও অবৈধ কর্মকান্ডের দায়ভার দলীয় ভাবে নেয়া হবে না। আপনারা বিষয়টি সংবাদপত্রে তুলে ধরতে পারেন। এ ঘটনায় আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বগুড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদের সাথে যোগাযোগ কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি জায়গা জবর দখল করে চলা এমন অবৈধ কাজের জন্য সাধারণ মানুষের লিখিত অভিযোগ কেন লাগবে সেটি সাধারণ মানুষের বোধগম্য হচ্ছে না।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত