কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৪ |  আপডেট  : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫৭

ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি প্লেব্যাক কন্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আজ রোববার মৃত্যু বরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বুকের সংক্রমণ ও শারীরিক অবসাদের কারণে তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানিয়েছেন তার নাতনি জানাই ভোঁসলে।

মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা পিটিআই চিকিৎসক প্রতীত সামদানির বরাতে জানায়, ‘কয়েক মিনিট আগে মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরে তিনি মারা গেছেন।’

হিন্দি প্লেব্যাক সংগীতে দিদি লতা মঙ্গেশকরের অসামান্য খ্যাতির ছায়া পেরিয়ে, সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানায় নিজস্ব কণ্ঠভঙ্গিতে আলাদা এক জগৎ গড়ে তুলেছিলেন আশা ভোঁসলে।

১৯৪৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন আশা। জীবনের পরিণত পর্বে তিনি সুরকার আর ডি বর্মণকে বিবাহ করেন। ছেলে আনন্দ ও নাতি-নাতনিদের ও অসংখ্য ভক্ত ও শ্রোতা রেখে গেছেন তিনি। 

‘আজা আজা’র’ তালে শ্রোতাদের নাচিয়ে ছাড়া কিংবা ‘চেইন সে হামকো কভি’র’ বেদনায় তাদের মন ভিজিয়ে দেওয়াÑদুটোই সমান দক্ষতায় পারতেন আশা। দিদি লতার সঙ্গে মিলে সাত দশক ধরে হিন্দি প্লেব্যাক সংগীতের দুনিয়া কাঁপিয়েছেন তিনি। বলিউডের নারী চরিত্রের প্রায় প্রতিটি গানেই ছিল এই দুই বোনের কণ্ঠ।

আশা নিজে আট দশকেরও বেশি সময় ধরে গান গেয়েছেন। রেকর্ড করেছেন অবিশ্বাস্য ১২ হাজার গান। ১৯৪৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মারাঠি চলচ্চিত্র মাঝা বাল’-এ গান গাওয়ার মাধ্যমে কিংবদন্তি ভারতীয় গায়িকা মাত্র ১০ বছর বয়সে নেপথ্য গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আশা ভোঁসলে। ২০১০-এর দশকের শেষ অবধিও গান গেয়ে গেছেন তিনি। বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে দীর্ঘতম সক্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের একজন তিনি।

আশার কণ্ঠে বয়স ছায়া ফেলেনি। ৮০ বছর বয়সেও তার কণ্ঠস্বর ছিল তারুণ্যে ভরপুর।

লতা মঙ্গেশকর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

সুরসম্রাট মদন মোহনের পছন্দের শিল্পী ছিলেন লতা। গজল ও সুরেলা গানে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আশাও এই ধারায় কম যেতেন না Ñ ‘উমরাও জান’ চলচ্চিত্রের গজলগুলো আজও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

তবে আশার নিজস্ব পরিচয় ছিল আলাদা। প্রথমে ও পি নায়ারের সঙ্গে তার জুটি উপহার দিয়েছিল ছন্দময়, প্রাণচঞ্চল সব গান। পরে আর ডি বর্মণের সঙ্গে মিলে তিনি ক্যাবারে, প্রেম, বিরহ সব আবেগকে সুর ঢেলে দিয়েছেন।

তবুও দুই বোনের মধ্যে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংগীতের মহাকাশে তারা ছিলেন পাশাপাশি দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

আশার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আভি না যাও ছোড়কর’, ‘ইন আঁখোঁ কি মাস্তি কে’, ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায় কি’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দুনিয়া মেঁ লোগোঁ কো’, ‘জারা সে ঝুম লুঁ মেঁ’Ñ আরও কত  গান।

মীনা কুমারী, মধুবালা, জিনাত আমান থেকে কাজল, উর্মিলা মাতোন্ডকর পর্যন্ত Ñ বলিউডের বহু নায়িকার লিপ্সিং-এর কণ্ঠে ছিলেন তিনি। দক্ষিণের পদ্মিনী ও বৈজয়ন্তীমালার লিপসিং-এও গেয়েছেন আশা।

২০২৩ সালে দুবাইয়ে ‘আশাঅ্যাট৯০: লাইভ ইন কনসার্ট’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের ৯০তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম আশার। বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের দিদি লতা ও তার সঙ্গিতে হাতেখড়ি হয়েছিল। সংগীত যেন তাদের ভাগ্যেই লেখা ছিল। চার বোনের মধ্যে লতা, ঊষা ও আশা প্লেব্যাক শিল্পী হয়েছিলেন, মীনা হয়েছিলেন সুরকার। ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরও সংগীতেই গড়েছিলেন নিজেকে।

আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও  গান রেকর্ড করেছেন।

তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন।

আশা শুধু সংগীতশিল্পীই ছিলেন না, সফল উদ্যোক্তাও ছিলেন। দুবাই ও যুক্তরাজ্যে তার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘আশা’ বেশ সুনাম অর্জন করে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত