স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী সরকারই লাভবান: মাহফুজ আনাম

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০১ |  আপডেট  : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২২

যে সরকার সত্যিকার অর্থে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে, সেই সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় বলে মন্তব্য করেছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মিলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের ভেতরে সত্য কথা বলার মানুষ খুব কম থাকে। দলীয় লোকজন, আমলাতন্ত্র কিংবা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক সময় বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না।’ তার মতে, স্বাধীন সাংবাদিকতাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা সরকারকে সত্য বলতে পারে।

সরকারের নেওয়া প্রকল্প ও কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, জনগণ তা গ্রহণ করছে কি না কিংবা সেখানে দুর্নীতি হচ্ছে কি না- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্বাধীন সাংবাদিকতাই দিতে পারে বলে মনে করেন মাহফুজ আনাম।

‘গণতন্ত্রই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক পেশাই সমাজের সেবা করে, তবে সাংবাদিকতার অস্তিত্বই হলো সমাজসেবা। এর ভেতরে রয়েছে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূর করা এবং সব ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষের অধিকার রক্ষা।’

‘সংবিধানে মাত্র দুটি পেশাকে সরাসরি সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং অন্যটি স্বাধীন গণমাধ্যম’, যোগ করেন এই খ্যাতনামা সম্পাদক। তার মতে, যে সমাজে স্বাধীন সাংবাদিকতা শক্তিশালী, সেই সমাজ গণতান্ত্রিক হয়, বৈষম্য কমে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

‘ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে সততা, নিষ্ঠা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখা অপরিহার্য। সাংবাদিকরা এসব মূল্যবোধ থেকে সরে গেলে সমাজ তাদের ওপর আস্থা রাখবে না’ বলেও শঙ্কা জানান তিনি।

সম্পাদকীয় দায়িত্ব প্রসঙ্গে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সম্পাদক হওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের প্রতিটি আচরণ ও সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, তা প্রতিষ্ঠান ও পুরো পেশাকে প্রভাবিত করে। সম্পাদকীয় দায়িত্ব একটি পূর্ণাঙ্গ পেশাগত দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে বিনিয়োগের জন্য গণমাধ্যম মালিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য শিল্পখাতে বিনিয়োগের মানসিকতা গণমাধ্যমে প্রয়োগ করলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। সাংবাদিকরা সামাজিক ডাক্তার। একজন ডাক্তার যেমন রোগীর অসুখ শনাক্ত করেন, সাংবাদিকও সমাজের সীমাবদ্ধতা, ব্যর্থতা এবং শাসনব্যবস্থার ত্রুটি তুলে ধরেন। আমরা এটা করি সমাজ ও দেশকে ভালোবাসি বলেই।’

‘স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা একে অপরের পরিপূরক’ মন্তব্য করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোর্ট অব কনটেম্পট একটি শক্তিশালী অস্ত্র। এই অস্ত্রের অপব্যবহার যেন না হয়। বিচার বিভাগ নিয়ে লেখা মানেই অবমাননা নয়, বরং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য।’

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই অর্থ সরকারের নয়, এটি করদাতা ও জনগণের টাকা। গণতান্ত্রিক ও জনস্বার্থমূলক প্রকল্পে সরকারকে সমর্থন করা হবে, তবে কোনো প্রকল্প দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত হলে তা প্রকাশ করাও সাংবাদিকদের দায়িত্ব।’

বক্তব্যের শেষে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জুলাইয়ের বিপ্লবের মাধ্যমে যেমন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে, তেমনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি নৈতিক, ন্যায়পরায়ণ ও গণতান্ত্রিক ধারার সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত