ত্রয়োদশ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছে না ইইউ মিশন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ |  আপডেট  : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০২

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে নিজেদের নিরাপত্তা সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েনের তথ্য দিয়েছেন মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে।তিনি জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশব্যাপী ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়বে।

এ কাজ চালু রাখতে গয়ে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা করছেন কি না, এমন প্রশ্নেরে উত্তরে ইন্তা লাসে বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি না যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমাদের সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করতে হবে। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বেষ্টনী সঙ্গে আছে।”

নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইনগত অঙ্গীকার রয়েছে তা মানা হচ্ছে কি না তা মিশন পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান তিনি।

এক সপ্তাহ আগে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন নিজেদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে। সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের সংজ্ঞায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস সেদিন বলেছিলেন,“আমি মনে করি, আমাদের দৃষ্টিতে প্রথমত অন্তর্ভুক্তি মানে হচ্ছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক সব গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি; নারী, জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মতো পক্ষগুলো যাতে অংশ নিতে পারে।

“আর অংশগ্রহণমূলক হওয়ার ক্ষেত্রে আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির দিকে ভালোভাবে নজর রাখব। যার মাধ্যমে আমরা ইঙ্গিত পাব যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করছে।”

২০০৮ সালের পর এবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, ভোটের আগে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জুড়ে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার তথ্য তুলে ধরে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।”

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

“আমাদের পর্যবেক্ষকগণ দুইজনের এক-একটি দল হয়ে কাজ করবেন এবং তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”

ইন্তা লাসে বলেন, “তাদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ মিশনকে আরও জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক। থাকবেন কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও।“তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম—ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।”

নির্বাচন সম্পন্নের পর আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউ মিশন নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পরে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে, যা মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

উপ প্রধান ইন্তা লাসে বলেন, “মিশনটি একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা কঠোর নিরপেক্ষতা ও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।“মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত