ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত জামালপুর

  ছাইদুর রহমান, জামালপুর থেকে

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৭ |  আপডেট  : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:১১

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচন  ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ২৬ লক্ষ্য মানুষ অধ্যুষিত জামালপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন নির্বাচন কর্মকর্তাবৃন্দরা। শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে জেলা প্রশাসন  ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছে সকল প্রকার প্রস্তুতি। নির্বাচনে  সহিংসতা, নাশকতা ও যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে  জেলায় ১ হাজার ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেন জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক। পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে জামালপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। সাধারণ ভোটার ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন সকল ভোটকেন্দ্রে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েনকৃত পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং কেন্দ্রের গুরুত্ব ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১ থেকে ৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে থাকবে ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ৬৫টি মোবাইল টিম। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওন ক্যামেরা এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অনলাইন বডি-ওন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক নজরদারিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি । এ ছাড়াও পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় জামালপুরে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।  জামালপুরে পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্রসহ কয়েকটি দলের ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।  ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রার্থীদের ভোট দিবেন ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার। 

 

জামালপুরের ৭ উপজেলা, ৮ পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ৬২৩টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২১২টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ২৮৯টি। জেলাতে সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে সদর-৫ আসনে, মোট ১৬১টি। আর সবচেয়ে কম ভোটকেন্দ্র জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনে মাত্র ৮৮টি। ঝুঁকির দিক থেকেও এগিয়ে সদর আসন। এখানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি।

 

১৩৮-জামালপুর-১, (দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ),

বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মিল্লাত এমপি থাকায় সীমান্তবর্তী অবহেলিত উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ উন্নয়নমূলক কাজ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক সাঈদী, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় পার্টির একেএম ফজলুল হক ও গণ অধিকার পরিষদের মো. রফিকুল ইসলাম। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন। স্থানীয় ভোটারদের মতে এখানে ভোটযুদ্ধ হবে বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে। তবে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিএনপি প্রার্থী মিল্লাতের অবস্থান অনেকটাই সুসংহত।

 

১৩৯-জামালপুর-২ (ইসলামপুর):

এ আসনে মূলত ভোটযুদ্ধ হবে বিএনপির সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক ড. অধ্যক্ষ ছামিউল হক ফারুকীর মধ্যে। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ ও স্বতন্ত্র অর্ণব ওয়ারেস খান। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, ২০০১ সালে বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত রাশেদ মোশারফকে কুপোকাত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু। ৫ বছরের ব্যবধানে নদ-নদী ভাঙনকবলিত অবহেলিত ইসলামপুরের ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি। নদীভাঙন রোধসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে সাধারণ মানুষের খুব কাছে চলে যান। এবারের নির্বাচনে আগেও ভোটারদের মুখে তার উন্নয়ন কর্মের কথা উঠে আসছে। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. অধ্যক্ষ ছামিউল হক ফারুকীর সৎ ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তবে এবার পশ্চিম ইসলামপুরের ৬টি ইউনিয়নের মানুষ অনেকটাই একাট্টা হওয়ায় তার মাঠের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। ফলে এ আসনে এবার বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন।

 

১৪০-জামালপুর-৩ (মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ):

এ আসনে প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামায়াতের মজিবুর রহমান আজাদী, জাতীয় পার্টির মীর শামসুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের দৌলতুজ্জামান আনছারী, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান, শিবলুল বারী রাজু ও ফারজানা ফরিদ। এ আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত