কুয়াশায় মাদারীপুরে কুয়াশায় পানের বরজে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ :বিপাকে কৃষক
এসআর শফিক স্বপন মাদারীপুর
প্রকাশ: ৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪১ | আপডেট : ৮ মার্চ ২০২৬, ১৮:০০
মাদারীপুরে অসময়ের ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের বরজে ছত্রাকজনিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মাদারীপুর জেলা পানের জন্য বিখ্যাত হলেও মাদারীপুরে মূলত মিষ্টি ও সাঁচি পান বেশি আবাদ হয় যা সারাদেশে সুস্বাদু হিসেবে খ্যাত হিসেবে পরিচিত সাধারণত বর্ষাকাল ও পরবর্তী মাসগুলোতে (জুন-আগস্ট) পানের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয় এ জেলায়।
পান চাষী সুদেব দাস জানান, অসময়ের ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে পান গাছের পাতা হলুদ-কালো হয়ে ঝরে পড়ছে, গোড়ায় পচন ধরছে, কাঁচা পান হলদে হয়ে নষ্ট হচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে পানপাতা। সেই সঙ্গে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে পান। গোপালপুরের পান চাষী মজিদ মোল্লা জানান, পানের উৎপাদন খরচ বেশি ও পানের দাম না পাওয়ার কারণে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়ে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়ছি। শুধু আমি নয় আমার মতো হাজারো পান চাষি।
মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৩শ৫৮ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কালকিনি ও শিবচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জমিতে পান চাষ হয়। মাদারীপুর জেলার কালকিনি ও ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম, রাজদী, মিনাজদী, পাঙ্গাশিয়া, পাতাবালি সহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে, ঘনকুয়াশার কারণে পানের পাতাপচা ও পান গাছের গোড়াপচা রোগসহ নানা ধরনের রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ছে পানের বরজে। কুয়াশার কারণে পান গাছের পাতায় কালো দাগ ও হলুদ রঙ ধরেছে। শুকিয়ে যাচ্ছে পানপাতা। সেই সঙ্গে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে পান।
জানাযায়,প্রতি বিঘা জমিতে পান চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। জমি ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক, সার ও সেচের খরচ মিলিয়ে এই ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। অথচ বাজারে পানের দাম এখন চরম নিম্নমুখী তার মধ্যে আবার এমন বিপদ ফলে উৎপাদ এবার অনেক লোকশানে পড়তে হবে আমাদের। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে পান গাছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজদী গ্রামের পানচাষি জামাল হাওলাদার বলেন, ‘ অসময়ের ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে পান ক্ষেতে নানা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পান গাছের পাতায় কালো দাগ ও হলুদ রঙ ধরেছে।
মিনাজদী গ্রামের পান চাষি নিহার দাস জানান, আমাদের বাপ দাদারা পান চাষ করতো আমরাও করি কিন্তু অসময় এমন কুয়াশায় আগে দেখি নাই, কুয়াশার হাত থেকে পান রক্ষার জন্য পুরো বরজ পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে দিতেছি।
মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক ড. রহিমা খাতুন জানান, ঘন কুয়াশা অতিরিক্ত শীত এবং আবহাওয়া মেঘলা থাকার কারণে পান গাছে ছত্রাকের আক্রমন দেখা দেয়। আমরা এই বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কার্বোন ড্রাইজিন অথবা ম্যানকোজিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করলে এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এ ছাড়া শৈত্যপ্রবাহের হাত থেকে বরজ রক্ষার জন্য পলিথিন টানিয়ে বেড়া দেওয়া হলে ছত্রাকের আক্রমন কম হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত