আদমদীঘিতে সংস্কারহীন সংকীর্ণ রাস্তায় চরম ভোগান্তিতে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ মানুষ
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১৮:৩৩ | আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ১৯:৫৬
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার বশিপুরে দেড় যুগ ধরে সংস্কার হয়নি একটি সংকীর্ণ রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। এ অবস্থায় দ্রæত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে গত রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর এলাকায় জনৈক মতিন নামের এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণের সময় চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা রাখেননি। সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী বসতবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রাস্তা রাখার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। এরপর থেকেই এই সংকীর্ণ পথে চলাচলকারী এলাকাবাসী কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বর্তমানে এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন মানুষের স্থায়ী বসবাস রয়েছে। কিন্তু চলাচল উপযোগী রাস্তার অভাবে প্রতিদিনই নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় তার স্বাভাবিক চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোটরসাইকেল কিংবা ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়িতে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয়রা জানান, কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ খাটিয়ায় করে নেওয়ার মতো ন্যূনতম চলাচলের ব্যবস্থাও নেই। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, সরজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত নিরসন করা হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত