হরমুজ প্রণালিতে আটকা বাংলাদেশের ৪ জাহাজ, কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে চিঠি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৫ |  আপডেট  : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়া বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ আটকানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। কিন্তু এরপরও কোনো জাহাজই ‘রেড জোন’ অতিক্রম করতে পারছে না। এমন জাহাজের সংখ্যা হবে ২০, যার মধ্যে ৯টিতে ১৪৬ নাবিক-ক্রু রয়েছেন। আশপাশের দেশের পতাকাবাহী জাহাজ আছে চারটি, যেগুলোর সব নাবিক-ক্রু বাংলাদেশি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) পাঁচ দিন আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির অনুলিপি তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছে। তবে সেখান থেকে কোনো উত্তর পায়নি বিএসসি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এরপর গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ছাড়া অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে নেয় ইরান। এর পর বিভিন্ন দেশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বুকিং থাকার পরও বাংলাদেশে আসতে পারছে না জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ১০টি জাহাজ। এমন জাহাজের একটি ‘লিব্রেথা’। এক সপ্তাহ চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি জাহাজটি। গতকাল আসার কথা ছিল আরেকটি জাহাজ ‘ওয়াবি আলসেল’। এটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে জ্বালানি বোঝাই করতে যেতে পারছে না কাতারে। বিএসসি মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামে জাহাজটিও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানান, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশের চারটি জাহাজ। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে একটু দূরে আছে আরও পাঁচটি জাহাজ। এগুলোর মালিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান হলেও সেগুলোতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাবিক-ক্রু আছেন। সব মিলিয়ে ৯টি জাহাজে বাংলাদেশের ১৪৬ নাবিক-ক্রু কর্মরত।

বাংলার জয়যাত্রা নামে জাহাজটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানেই আটকা পড়ে। বিএসসির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, “বেশ কয়েকবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। এখন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় জাহাজটিকে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পার করে আরব সাগরে নেয়ার চেষ্টা চলছে।”

যুদ্ধের কারণে আটকা পড়েছে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের পূর্বনির্ধারিত জাহাজও। বিপিসি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ জাহাজ জ্বালানি তেল আমদানি করে। চলতি মার্চেই জ্বালানি তেল নিয়ে তাদের জাহাজ আসার কথা ছিল মোট ১৬টি। গতকাল পর্যন্ত এসেছে ১০টি। অন্যদিকে চলতি মাসে দেশে ৯ জাহাজ এলএনজি আসার কথা ছিল। এসেছে মাত্র চারটি। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৭ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি, গ্যাস অয়েল, এমইজি, বেস অয়েল, এইচএসএফওসহ কনডেনসেট বোঝাই জাহাজ এসেছে ১৮টি।

এলএনজি আমদানির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম মো. নুরুল আলম বলেন, “এই মাসে মোট ৯ জাহাজ এলএনজি আসার কথা ছিল। এর মধ্যে ১৪, ১৮, ২৬ ও ২৭ মার্চ আসার শিডিউল থাকা চারটি জাহাজ ঘিরে অনিশ্চয়তা আছে। এই চারটি জাহাজে করে মোট দুই লাখ ৪৫ হাজার টন এলএনজি আসার কথা ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে যে চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছিল, সেগুলো চট্টগ্রামে এসেছে। ৫৮ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আগামী ২০ মার্চ নোঙর করবে ‘সোনানগাল বেনগুয়েল’। বাকি চারটি অনিশ্চিত।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত