বাংলাদেশের দরকার ১০ উইকেট, পাকিস্তানের ৪৩৭ রান, সময় দুই দিন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১৮:০৮ |  আপডেট  : ১৮ মে ২০২৬, ১৮:৫৪

পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। কেননা টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলের ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই।

আজ সিলেটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হলে এই লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। টেস্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যান্টিগায় ৩ উইকেটের জয় পায় ক্যারিবিয়ানরা।আর পাকিস্তানের রান তাড়ার রেকর্ডটি হচ্ছে ৩৭৭ রানের।

 ২০১৫ সালে ৭ উইকেটের জয়টি পেয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে। তাই সিলেট টেস্টে বাংলাদেশকে হারাতে হলে ইতিহাসই বদলে দিতে হবে অধিনায়ক শান মাসুদের দলকে।বিপরীতে সিলেটে রান তাড়ার জয়ের রেকর্ডটি জিম্বাবুয়ের। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭২ রান তাড়া করে জয় পায় তারা।

কিন্তু এবার পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্যটা দ্বিগুণের বেশি। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে দুই দিনের বেশি সময় পাচ্ছে অতিথিরা।পাকিস্তানকে রানের চাপে পিষ্ট করার মূল কৃতিত্ব মুশফিকুর রহিমের। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার আজ রেকর্ড সেঞ্চুরি পেয়েছেন সিলেটে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি তার।

১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে পেছনে ফেলেছেন মমিনুল হককে। এতদিন দুজনই ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। আজ ৩ উইকেটে ১১০ রানের দলীয় স্কোর নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুটা ভালো ছিল না। দলীয় খাতায় ৫ রান যোগ হতেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫)। গত দিনের সঙ্গে আজ মাত্র ২ রান যোগ করেন অধিনায়ক। ফিরতি উইকেটে অবশ্য দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিক-লিটন দাস। 

পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন মুশফিক-লিটন। তাদের দুর্দান্ত জুটিটা ভেঙে যায় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ানের বিদায়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রানে আউট হয়েছেন লিটন। ‘টুইন সেঞ্চুরি’ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক মাঠ ছাড়লেও তিন অংকের দেখা ঠিকই পেয়েছেন মুশফিক।

যেন মিরপুর টেস্টের আক্ষেপ এই টেস্টে ঘুচালেন মুশফিক। প্রথম টেস্টে ২৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। তাতে এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। আজ আর মিস করেননি তিনি। শেষ ব্যাটার হিসেবে ১৩৭ রানে আউট হওয়ার আগে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১২ চার ও ১ ছক্কায়।

মুশফিকের সেঞ্চুরিতে দারুণ অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। সপ্তম উইকেটে দুজনে ৭৭ রানের জুটি না গড়লে হয়তো প্রায় সাড়ে চার শ রানের লক্ষ্যটাও দেওয়া হতো বাংলাদেশের। বাঁহাতি স্পিনার ২ চারে ২২ রান করেছেন। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন খুররাম শেহজাদ। প্রথম ইনিংসেও সমান শিকার করেন এই পেসার।

পরে আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দিন শেষ হওয়ার আগে ২ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় পাকিস্তান। তবে দুই উদ্বোধনী ব্যাটার আজান ওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল রানের খাতা খুলতে পারেনি। পাকিস্তানের দলীয় স্কোরও তাই বিনা উইকেটে শূন্য।এর আগে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে ১০৪ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত