নন্দীগ্রামে সরিষা ফুলের খাঁটি মধু সংগ্রহের ধুম, বাড়ছে ফলন ও আয়
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩২
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চোখ ধাঁধানো হলুদের সমারোহ। প্রকৃতি যেনো সেজেছে নতুন সাজে। সকালের নরম রোদ আর শীতল আবহাওয়ার মাঝে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেই চলছে আরেক ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ মধু সংগ্রহ। প্রতিবছরের মতো এবারো সরিষা মৌসুমে নন্দীগ্রামে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন জেলার মৌখামারিরা। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা ক্ষেতের পাশের ফাঁকা জমিতে সারি সারি করে সাজানো হয়েছে শত শত মৌবাক্স। দূর থেকেই শোনা যায় মৌমাছির ভু ভু গুঞ্জন। সরিষা ফুলে বসে মৌমাছিরা মধু আহরণ করছে। মুখ ভর্তি মধু নিয়ে মৌমাছি ফিরে আসছে মৌবাক্সে। সেখানে মধু জমা করে আবার ছুটে যাচ্ছে ফুলের মাঝে। এভাবেই দিনভর চলতে থাকে মৌমাছিদের নিরবচ্ছিন্ন মধু সংগ্রহ। মৌমাছি সরিষা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্রহ করায় সরিষা ফুলের পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মৌখামারিরা জানান, একটি মৌবাক্সে সাধারণত ৮ থেকে ১০টি মোম দিয়ে তৈরি চাকের ফ্রেম রাখা হয়। মৌবাক্সের ভিতরে রাখা হয় একটি রাণী মৌমাছি। রাণী মৌমাছির উপস্থিতির কারণেই শ্রমিক মৌমাছিরা ওই বাক্সে অবস্থান করে এবং ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চাকের ভেতরে জমা করে। মৌবাক্সের নিচের দিকে রাখা ছোট ছিদ্র দিয়ে মৌমাছিরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। একটি মৌবাক্সের চাকে সম্পূর্ণভাবে মধু ভরতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১২দিন। এরপর বিশেষ মেশিনের সাহায্যে চাকের ফ্রেম থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মধুর স্বাভাবিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। নড়াইল সদর উপজেলার চিলগাছা রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে আসা মৌখামারি চাঁন মিয়া বলেন, আমরা ২৫ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার কুচাইকুড়ি সরিষা ক্ষেতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও ফুলের ঘনত্ব মধু সংগ্রহের জন্য খুবই উপযোগী। আশা করছি এবার ভালো পরিমাণ মধু পাবো। তিনি আরো জানান, গত ৭ বছর ধরে মধু সংগ্রহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমানে আমার প্রায় ২০০টি মৌবাক্স রয়েছে। ১০ থেকে ১২দিন পরপর মধু সংগ্রহ করা হয়। বাজারে প্রতিমন মধু ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন সরিষা ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, যেসব সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে সেসব জমিতে অন্যান্য জমির তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া যাবে। মৌমাছি সরিষা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্রহের কারণে সরিষা ফুলে পরাগায়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরো বলেন, মৌচাষের কারণে একদিকে যেমন সরিষার উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীও অল্প মূল্যে খাঁটি মধু পাচ্ছেন। এতে কৃষক ও মৌখামারিরা লাভবান হচ্ছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত