দুশ্চিন্তায় চাষিরা

কাউনিয়ায় কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত

  সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৬ |  আপডেট  : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৩

রংপুরের কাউনিয়ায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় মরে যাচ্ছে বোরো ধানের বীজতলার চারা। আর রোদ না থাকায় ও কনকনে ঠান্ডায় জীবিত চারা হলদে ভাব ধারন করেছে। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ পাচ্ছেন না চাষিরা। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সময় মতো ধানের চারা জমিতে রোপণ করা নিয়ে সঙ্কায় ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ কৃষক। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্রামে বোরো ধানের বীজতলার চারা রোপণ শেষ করেছিলেন চাষিরা। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের অধিকাংশ বোরো বীজতলা। অনেকের চারা বীজতলার অর্ধেক নষ্ট হয়েগেছে এবং বাকি অংশ হলদে ভাব ধারন করেছে। বালাইনাশক ছিটিয়েও পচন রোধ করা যাচ্ছে না।  নিজপাড়া গ্রামের চাষি প্রহলাদ চন্দ্র জানান, বীজতলা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান চাষের খরচ বাড়ছে। নিজপাড়া গ্রামের অপর চাষি মোস্তা জানান আমার বীজতলা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে, আমি বোরো ধান রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। গত সপ্তাহ জুরে সকাল থেকে দেখা নেই সুর্যের। মাঝে দুদিন দুপুরে কিছুটা রোদের আলো দেখা গেলেও কমেনি শীতের তীবৃতা। হাড়কাঁপানো শীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে কাঁপছেন কৃষকজীবি ও শ্রমিকেরা। কৃষি বিভাগ বলছে, বীজতলায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন তাঁরা। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পলিথিন ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়াও যেসব ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। নতুন করে আবারও বীজতলা তৈরি করতে হবে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে এবং খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আকতার জানান, চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা ৭ হাজার ৫শত ৪৩ হেক্টর জমির বিপরিতে বীজতলা তৈরী লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫৩ হেক্টর, এর মধ্যে হাইব্রীড ১০০ এবং উপশি ২৪৩ হেক্টর। শীত ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা রক্ষার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রোদ উঠলেই স্বাভাবিক হবে তলে তার আশা। তিনি জানান বীজতলায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। সকালে কুয়াশা কমলে পাতলা সেচ দিয়ে পানি নামিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, রাতে পলিথিন বা খড় দিয়ে আংশিক ঢেকে রাখতে হবে বীজতলা। 
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত