আমেরিকা চাইলেও বাণিজ্য বন্ধ হবে না, বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৫১ |  আপডেট  : ১ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩৫

আমেরিকার সরকার বললেই পোশাক রফতানি বন্ধ হবে না বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার ( ৩০ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

পরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, একসময় আমাদের ভয় ছিল যে আমেরিকা কোটা সিস্টেম উঠিয়ে দিলে না জানি কী ভরাডুবি হবে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে শোরগোল উঠেছিল। পরে দেখা যায়, আমাদের ব্যবসায়ীরা এতই স্মার্ট যে কোটা সিস্টেম উঠিয়ে দেয়ার পরে রফতানি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল। 

তিনি বলেন, এখন কী হবে না হবে জানি না। তবে আমাদের গতিশীল প্রাইভেট সেক্টরের ওপর আমার আস্থা আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমেরিকার সরকার বললেই এটা বন্ধ হবে না। কারণ ওখানের প্রাইভেট খাতগুলো তাদের সরকারকে অনেকসময় পাত্তাই দেয় না। আর তারা কেনে, কারণ তারা সস্তায় পায়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমনীতি নিয়ে আমাদের এখানে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তারও কারণ নেই। তবে শ্রমিকদের কল্যাণে যেকোনো পদক্ষেপে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করি।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সাম্প্রতিককালে আমেরিকার মতো সবচেয়ে ধনী দেশ দুনিয়ার মজদুরদের জন্য যদি কোনো ভালো প্রোগ্রাম নিয়ে আসে। তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য তাহলে সেটা মহান পদক্ষেপ। তবে আমি আশা করব আমেরিকার মতো দেশ জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তারা একটা প্রোগ্রাম নিয়ে আসবে। উদ্বাস্তুদের জন্যও তারা প্রোগ্রাম নিয়ে আসবে। কারণ পৃথিবীর সবার শেষ আকাঙ্ক্ষা আমেরিকা। তারা যদি এরকম প্রোগ্রাম নিয়ে আসে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাব।

ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতের ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সরকারি নিয়মে প্রত্যেক রাষ্ট্রদূতই বাৎসরিক ছুটি উপভোগ করে। অনেকে দেশে এসে কিছুটা করেন বা দেশের বাইরে করেন। অনেক রাষ্ট্রদূতের ছেলেমেয়ে ওখানে পড়ালেখা করেন আবার বিয়েও দিয়েছেন। ওনার যে ছুটি পাওনা সেটা তিনি আমাদের থেকে অনুমোদন নিয়েই ছুটিতে গেছেন। এটা একটা রুটিন কার্যক্রম। 

আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা চাই না আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হোক। তৈরি পোশাকখাতের বড় বড় ক্রেতারা ইউরোপীয় ও আমেরিকার। এটা আমাদের বড় রফতানি। এক্ষেত্রে ব্যাঘাত হলে অসুবিধা হবে। তবে এতটুকু বলে রাখতে চাই, এগুলো সব প্রাইভেট সেক্টরের, আর যারা ক্রেতা, তারাও প্রাইভেট সেক্টরের। সুতরাং, তারা সরকারের কারণে কেনে না, তারা কেনে সস্তা ও ভালো মানের পণ্যের কারণে এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারি হয় বলে। 

গার্মেন্টস পণ্যে যদি কোনা বাধা আসে, এ বিষয়ে তিনি বলেন এটা ভালো হবে না। আমরা চাই না আমাদের উন্নয়নের অগ্রগতি কোথাও বাধাগ্রস্ত হোক। আমরা এলডিসি যদিও, তবে আমরা আদর্শ দেশ, যারা এক্সপোর্ট লেড গ্রোথের দেশ। 

যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে শ্রমনীতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, দূতাবাস মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। সেটা দিতেই পারে। আমি বিস্তারিত জানি না। তবে আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব আছে বলে আপনারা এসব নিয়ে নিউজ করেন। অন্য কোনো দেশের সাংবাদিকরা এসব নিয়ে নিউজ লিখতেন না।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত