আদমদীঘির রক্তদহ বিলে অবাধে চলছে রিং জাল দিয়ে দেশীয় মাছ ধরার মহোৎসব
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১৮:৫০ | আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ২০:০০
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী বা রিং জাল ব্যবহার করে অবাধে চলছে দেশীয় মাছ ধরার মহোৎসব। এর ফলে নানা প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও হচ্ছে ধ্বংস। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলপাড়ের কয়েকটি গ্রামের মাছ শিকারিরা দিন-রাত মাছ ধরলেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি খুবই কম। দীর্ঘদিন ধরে রিং জাল ব্যবহারের কারণে রক্তদহ বিলে মাছের সংখ্যা কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। জেলেদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষও এই অবৈধ উপায়ে জড়িয়ে পড়েছেন মাছ ধরার কাজে। এই জালে বড় মাছের সঙ্গে মাছের ডিম ও রেণুও ধরা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। এক সময় মাছে ভরপুর রক্তদহ বিল এখন অনেকটাই মাছশূন্য। শুধু বিল নয়, এর সঙ্গে যুক্ত ২২টি শাখা খালেও আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার প্রসাদখালি, কাশিমিলা, দমদমা, কদমা, করজবাড়ি, রামপুরা, ছাতনী, ঢেকড়া এবং নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বোদলা, পালশা ও তেবাড়িয়াসহ কয়েকটি গ্রামের জেলে ও সাধারণ মানুষ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বর্ষা মৌসুমে রিং জালের ব্যবহার আরও বেড়ে যায়। এই জালে বড়-ছোট সব ধরনের মাছ এবং মাছের রেণু আটকা পড়ে। মাছ শিকারিরা বড় মাছ নিয়ে গেলেও ছোট মাছ, মাছের ডিম ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ফেলে রেখে যায়। পরে রোদে মারা যায় সেগুলো। রিং জালে সাধারণত বোয়াল, শোল, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটি ও টাকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এতে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে দ্রæত। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজারের বেশি জেলে পরিবার রক্তদহ বিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল। বেশিরভাগ জেলে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ ধরলেও কিছু অসাধু জেলে ও স্থানীয় মানুষ রিং জাল ব্যবহার করছেন।
রিং জালের কারণে অন্য জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ছে না। এতে অনেক জেলে আয়-রোজগার হারিয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে আদমদীঘি, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে রিং জাল বিক্রি হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন বলেছেন, ‘এভাবে রিং জাল ব্যবহার চলতে থাকলে একসময় দেশীয় মাছ বিল থেকে হারিয়ে যাবে।’
আদমদীঘি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে কিছু রিং জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজনকে জরিমানা ও কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত