আদমদীঘিতে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সাইলো সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম, জনমনে অসন্তোষ
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১৮:৫৫ | আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ২০:০০
খাদ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বগুড়ার সান্তাহার সাইলো সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ টেকসই আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, চলমান কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের খেয়ালখুশি অনুয়ায়ী কাজ করছে। ফলে এই কাজের গুণগত মানে অসন্তোষ ও টিকসই সড়ক নির্মানে সরকারি বিপুল অর্থ যথাযথ ব্যবহার নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সাইলোতে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটি সাইলো (চাল ও গম সংরক্ষণাগার) এবং ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি সার গুদাম রয়েছে। সাইলোতে যাতায়াতের জন্য খাঁড়ির ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন সাইলো ও সার গুদামে অসংখ্য ভারী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও দমদমা, সান্দিড়া, কাজিপুর, তাঁরাপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য এটি প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের চাপ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পাথর, ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটতে থাকে। এ অবস্থায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সড়ক সংস্কারের দাবিতে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের নজরে আসে। পরে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এ. ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)। চলতি বছরের ৩ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইলোর প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজ শুরু করে। তবে কাজ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের একাধিকবার এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের গাইডওয়ালে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি খনন না করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি খনন করা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের এবং কোনো কোনো স্থানে পুরোনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে ১০ মিলি রড, ছোট-বড় মরা পাথর, ময়লাযুক্ত বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আরসিসি ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের দাবী, ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী ও টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য পুরোনো কার্পেটিং তুলে রোলার বা ভাইব্রেটরের মাধ্যমে যথাযথভাবে কমপ্যাকশন করা প্রয়োজন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিদ্যমান কার্পেটিংয়ের ওপর বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই কাজ শুরু করেছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবী, প্রকল্পের অনুমোদিত ইস্টিমেট অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই বিষয়ে কঠোর তদারকি এবং মানসম্মত নির্মাণকাজ নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) এ টি এম কাউছার হোসেনের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রিসিভ করেননি।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত