স্বাধীনতা দিবসের ভাবনা

  মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২২, ০৯:০৫ |  আপডেট  : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৪

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের এ দিনে আমরা অবতীর্ণ হয়েছিলাম একটি সশস্ত্র যুদ্ধে। সে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। নয় মাসের জীবনপণ যুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা পেয়েছি আমাদের আজন্ম লালিত স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার প াশ বছর পার করার পর আজ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যে স্বপ্ন চোখে নিয়ে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলাম, তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।

স্বাধীনতার পর পরই প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক খান আতাউর রহমান নির্মাণ করেছিলেন তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘আবার তোরা মানুষ হ’। ওই ছবিতে যুদ্ধ ফেরত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের নৈতিক অধঃপতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। আর সিনেমাটি ছিল ওইসব বিপথগামী যুবকদের উদ্দেশে একটি আহ্বান। ছবিতে খান আতা একজন কলেজ শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের সুপথে আনার চেষ্টা করছিলেন। খান আতার ওই ছবির ক্লাসরুমকে যদি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিচিত্র হিসেবে কল্পনা করা যায়, তাহলে তার শিক্ষক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী, তারা দেখেছি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে তিনি কী উদয়াস্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন  দেখেছিলেন, যে বাংলাদেশে থাকবে না কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম, অবিচার, অন্যায়, বৈষম্য। তাই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কতিপয় মানুষের আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য হন্যে হয়ে ওঠা তাঁকে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছিল। আর সেজন্য আমরা দেখেছি দুর্নীতিবাজ আমলা, দলীয় নেতাকর্মী, চোরাকারবারী, সমাজবিরোধীদের উদ্দেশে তাঁকে বারবার হুসিয়ারি উচ্চারণ করতে। কখনো বা আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘মানুষ পায় সোনার খনি, আর আমি পাইছি চোরের খনি’। কখনো বা বলেছেন, ‘সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্যে সাড়ে নয় কোটি কম্বল আসলো, ভাগে আমিও একটা পাই। কিন্তু চোরেরা আমার কম্বলটাও বেইচা খাইছে’। বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তৃতার ভিডিও ফুটেজ এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে। ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনা সদস্যদের সমাবেশে সে বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন-‘মনে রেখো, শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে। তুমি যখন শাসন  করবা সোহাগ করতে শেখ। তাদের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়িও। তাদের ভালোবেসো। কারণ তোমার হুকুমে সে জীবন দেবে। তোমাকে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে। সে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হলে তোমাকে শৃঙ্খলা শিখতে হবে। নিজকে সৎ হতে হবে। নিজের দেশকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং চরিত্র ঠিক রাখতে হবে। তা না হলে কোনো ভালো কাজ করা যায় না। আমার মুখ কালা করো না, দেশের মুখ কালা করো না, সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুখ কালা করো না। তোমরা আদর্শবান হও। সৎপথে থেকো। মনে রেখো, মুখে হাসি মনে বল তেজে ভারা মন, মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন। মাঝে মাঝে আমরা অমানুষ হয়ে যাই। এত রক্ত দেয়ার পর যে স্বাধীনতা এনেছি, চরিত্রের পরিবর্তন এখনো অনেকের হয় নাই। এখনো ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি, মুনাফাখোরি বাংলার দুঃখী মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দীর্ঘ তিন বছর পর্যন্ত এদের আমি অনুরোধ করেছি, আবেদন করেছি, হুমকি দিয়েছি- “চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী”। কিন্তু আর না।’

কী নির্মম সত্য উচ্চারণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু! নিরন্তর সংগ্রাম এবং একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করলেও আমাদের অনেকেরই যে চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি তার প্রমাণ তো হরহামেশাই মেলে। বঙ্গবন্ধুর  ওই ভাষণের সারর্মম কী আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি? তাঁর ওই ভাষণটি শুনে আমার মনে হয়েছে, একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রদেরকে নৈতিক শিক্ষা দিচ্ছেন। একজন মানুষের সুনাগরিকে পরিণত হওয়ার জন্য যে দিকনির্দেশনা দরকার, তার সবই রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ওই বক্তৃতাংশে। যুদ্ধ করে দেশের ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জন করা গেলেও সে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে যে নাগরিকদের সৎ চরিত্রবান ও দায়িত্বশীল হতে হয়, বঙ্গবন্ধু বলেছেন সে কথা। তাঁর ওই ভাষণের আটচল্লিশ বছর পরে আজ আমরা যদি বাংলাদেশের বাস্তবতার দিকে তাকাই, তাহলে শুধু হতাশাই আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে না, দেশের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত হতে হয়। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, যারা অহরহ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বলেন, তাদের কেউ কেউ এমন সব কর্মকান্ডে লিপ্ত হন, যেগুলো তাঁর আদর্শের সাথে যায় না। তাদের কায়কারবার দেখলে প্রশ্ন জাগে, তারা কি আসলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে লালন করেন? বঙ্গবন্ধু আজীবন দেশ ও মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। কিন্তু আজ আমরা কী দেখি? মুখে নিজেদেরকে ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে তারা কাজ করে চলেছেন তাঁর আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত । 

গত ২৩ মার্চ দৈনিক সমকালে আওয়ামী লীগ দলীয় একজন সংসদ সদস্যের হঠাৎ করে ধনবান ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার কাহিনী বেরিয়েছে। রাজশাহীর মোহনপুরের ওই সংসদ সদস্যের অর্থ-সম্পদের যে বিবরণ পত্রিকাটির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ না হয়ে যায় না। ২০১৪ সালে প্রথমবার এমপি হওয়ার আগে তার যে সম্পদ ছিল, এখন তা বেড়ে ১৯ গুণ হয়েছে। হয়েছে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি। শুধু ওই একজন আয়েন উদ্দিন নয়, এমন আরো অনেকেই আছেন। এরা যখন জনতার সামনে বক্তৃতা দেন, তখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ‘জান কোরবান’ করার কথা বলে থাকেন। কিন্তু কাজে তারা সে আদর্শ থেকে যোজন যোজন দূরে। বঙ্গবন্ধু কখনো রাজনীতিকে ব্যবহার করে অর্থ-সম্পদ অর্জনের কথা ভাবেন নি। দুর্নীতি করেন নি, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। কিন্তু আজ তাঁরই দলে দুর্নীতিবাজদের বিপুল সমাবেশ। তাদেরকে রুখবার যেন কেউ নেই। মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কথা বলেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি তার সে সদিচ্ছার প্রমাণও দিয়েছেন। নিজ দলের দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হতেও দ্বিধা করেন নি। কিন্তু বৃক্ষের প্রতিটি শাখায় পাতায় যেখানে দুর্নীতিবাজ নামের দুষ্টকীট বাসা বেঁধেছে, সেখানে তিনি কতটা সফল হবেন? কারণ যে যন্ত্রের সাহায্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে বিরাজমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি অভিযান চালাবেন, সে যন্ত্রেই রয়েছে দুর্নীতির বাস। প্রবাদের সেই ভূত তাড়ানোর সর্ষের মধ্যে ভূত থাকার মতো। 

আমরা স্বাধীন হয়েছি পঞ্চাশ বছর পার হয়েছে। এবার একান্ন বছর হলো আমাদের স্বাধীনতার বয়স। সময়টা কিন্তু কম নয়। এই অর্ধশত বছরে আমাদের জাতীয় আগ্রগতি যে পরিমাণে হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি। তর্কের খাতিরে কেউ কেউ আমার এ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে পারেন। তবে বাস্তবতাকে যদি তারা অস্বীকার না করেন, তাহলে অবশ্যই এর সত্যতা স্বীকার করতে হবে। এত বছরে যে পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, তা দিয়ে আরো গোটা চারেক পদ্মা সেতু বানানো যেত এ কথা অর্থনীতিবিদরাই বলেছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থের তছরুপের যেসব খবরাখবর প্রায়ই প্রকাশ পায়, তাতে কি এটা স্পষ্ট নয় যে, আমাদের অর্থনীতিকে কারা ফোকলা করে দিচ্ছে?

 আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। প্রতিবারের মতো এবারও আমরা রাজনীতিকদের কাছ থেকে নানা রকম কথা শুনব। কেউ বলবেন দেশ আজ শান্তি-সুখের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, আবার কেউ বলবেন অর্ধশত বছর পার হলেও স্বাধীনতার সুফল মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া যায়নি। এর কোনোটাই সর্বাংশে সঠিক বা বেঠিক নয়। আবার সেজন্য কেউ এককভাবে দায়ীও নয়। দায় আমাদের সবার। এ পাঁচ দশকে আমরা যতদূর এগিয়ে যেতে পারতাম তা পারিনি। কেন পারিনি, সে কথা পুনর্বার বলার অপেক্ষা রাখে না। দুর্নীতি-অনিয়মের ব্যাপক বিস্তার আমাদের অগ্রযাত্রার পথে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদেরকে যারা নেতৃত্ব দেন, তারা সব সময় আশার বাণী শোনান। তাদের সেসব কথায় আমরা আশান্বিত হই। কিন্তু অধিকাংশ সময় সেসব আশার বাণী অসার বাণীতে পরিণত হয়ে হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যায়। 

উনিশ শ একাত্তরে যেদিন আমরা অস্ত্র হাতে দেশ-মাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার জন্য লড়াই করেছিলাম, তখন কি একবারও ভেবেছিলাম, স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক হানাহানি থাকবে, গণতন্ত্রর জন্য হা-পিত্যেশ করতে হবে? পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে এদেশের মা-বোনদের সম্ভ্রম লুণ্ঠনের দৃশ্য দেখে আঁৎকে ওঠা বাঙালি কি ঘুণাক্ষরেও ভেবেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেও নারী ধর্ষিতা হবে? অথচ আজ প্রতিনিয়ত সম্ভ্রমহারা নারীর আর্তনাদে বাংলাদেশের বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। সন্তানহারা মায়ের বিলাপ প্রশ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করে- এ কেমন স্বাধীনতা, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই, নারীর সম্ব্রমের নিশ্চয়তা নেই? গরীব যেখানে আরো গরীব হচ্ছে, আর একদল নীতি-নৈতিকতাহীন অর্থগৃধ্নু হাতিয়ে নিচ্ছে রাষ্ট্র  তথা জনগণের সম্পদ, এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? না, আমরা এ বাংলাদেশ চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম একটি শোষণ-ব নাহীন শান্তি-সুখের বাংলাদেশ। যে দেশ পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে মা তার সন্তানকে যুদ্ধে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন এই বলে- দেশ স্বাধীন করে তবে ফিরে আসবি। তাদের কেউ ফিরেছে, কেউ ফেরেনি। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন তাঁর উপন্যাস ‘হাঙর নদী গেনেড’-এ তেমন এক মায়ের কথাই বলেছেন। যেখানে হানাদারদের হাত থেকে দুই মুক্তিযোদ্ধার জীবন বাঁচাতে মা তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলের হাতে এসএমজি দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। যারা সে কাহিনী পড়েছেন, আমার বিশ্বাস তারাই ওই মায়ের দেশপ্রেমে আপ্লুত হয়েছেন। একজন মা দেশকে কতটা ভালোবাসলে, দেশের স্বাধীনতার জন্য কতটা উন্মুখ হলে নিজের সন্তানকে কোরবানি দিতে পারেন, তা ভাবলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। সেলিনা হোসেনের উপন্যাসের ঘটনা হয়ত কাল্পনিক। তবে একাত্তরের নয় মাসে এ ধরনের আত্মত্যাগের বহু নজির রয়েছে। তবে সেসব ঘটনা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়নি। খান আতার পূর্বোল্লিখিত ওই ছবির একটি গান- ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’র দুটি লাইন এ রকম- ‘হয়তো বা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা র’বে না/ বড় বড় লোকেদের ভিড়ে, জ্ঞানী আর গুণীদের আসরে/ তোমাদের কথা কেউ ক’বে না/ তবু এই বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা/ তোমাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না’। তেমনি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসের মা ‘বুড়ি’র মতো লাখো মায়ের আত্মত্যাগ ইতিহাসে লেখা না হলেও তাদের ঋণ আমরা কোনোদিনই শোধ করতে পারব না। 

তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোসর্গকারী শহীদদের প্রতি আমরা সম্মান জানাতে পারি বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ শান্তিময় দেশে পরিণত করে। সেজন্য আমাদেরকে নামতে হবে আরেকটি যুদ্ধে। সে যুদ্ধ দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধীদের সমূলে উৎপাটনের। ওই যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র হবে নৈতিক সাহস; যে সাহস আমরা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছি। 

লেখকঃ সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক।
  
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত