যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়: মির্জা ফখরুল

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৩ |  আপডেট  : ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২

নির্বাচনি প্রচারে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলে আক্রমণ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে থাকা নিজের বাবা মির্জা রুহুল আমিনের প্রশংসা করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি নিজেও স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণে বলা হচ্ছে।

শনিবার সকালে নিজের আসন ঠাকুরগাঁও-১ এর পশ্চিম আকচা এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরেন।জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেছেন, “যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।”

১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন, ১৯৯৯ সালে জামায়াতে সঙ্গে জোট গঠন, দুই বছর পরের নির্বাচনে জিতে একসঙ্গে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন তারা একসঙ্গে করে, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জনও হয় একই সঙ্গে।

তবে ২০২২ সালের শেষ দিকে জোট ভেঙে যাওয়ার কথা জানায় বিএনপি। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের বিরোধিতায় নেমেছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের জাতীয় নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী। আর বিএনপি তার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে বারবার আক্রমণ করছে।

ফখরুল বলেন, “আরেকটা দল ভোটের জন্য এসেছে। তাদের মার্কা হলো দাঁড়িপাল্লা। ৭১ সালে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। অনেক লোককে মেরে ফেলেছে, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে, তারা এখনও মাফ চাননি।”

তবে একই জনসভায় নিজের বাবা মির্জা রুহুল আমিনের প্রশংসা করেন ফখরুল, জামায়াত ও তার জোটের নেতারা যাকে ‘বড় রাজাকার’ আখ্যা দিচ্ছেন।বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমার বাবা এলাকায় ভালো কাজ করেছেন।”

তবে সম্প্রতি জামায়াতের একটি জনসভায় জোটের শরিক লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়বেন না। আমরা জানি আপনার পিতা… চখা রাজাকারের কথা আমরা ভুলে যাইনি। একজন যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থানকারীর সন্তান হিসেবে আজকে আপনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুন নতুন যুদ্ধাপরাধী তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এই সমস্ত ভাঙা ঢোল বাংলাদেশে বাজবে না।”

ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়ার পর সরে দাঁড়ানো নেতা হেলাল উদ্দিন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের আব্বা ওনি কী ছিলেন, আমীর খসরু মাহমুদ সাহেবের আব্বা, ওনি কী ছিলেন, বড় বড় রাজাকারের তালিকায় তাদের নাম আজকে আসে না, আসে কেবল জামায়াতে ইসলামীর নাম। আবদুর রহমান বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট, কারা বানালেন প্রেসিডেন্ট বলেন। তিনি কী ছিলেন, শাহ আজিজুর রহমান, তাকে প্রধানমন্ত্রী কে বানিয়েছিলেন? এগুলো কথা বলে মাঠে… হালে পানি পাওয়া যাবে না।”

মির্জা রুহুল আমিন পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে মুসলিম লীগের মনোনয়নে দুইবার পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সে সময়ের দিনাজপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।

পরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে তিনি এই দলে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হন। ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতীকে ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।

মির্জা ফখরুল তার বাবার কথা উল্লেখ করে বলেন, “তাঁর ছেলে হিসেবে আমিও আপনাদের কাছে এসেছি। আমি মন্ত্রীও ছিলাম, কেউ বলতে পারবে না এক কাপ চা খেয়েছি।”নিজের পক্ষে ভোট চেয়ে ফখরুল বলেন, “এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।”

জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিকাশ নম্বর কাউকে দেবেন না। এসব ভাঁওতাবাজি আর ধান্দাবাজি। ভোট দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে, এসব কথা সঠিক নয়।”

গত ১৫–১৬ বছর দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে এবং সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে, বলে মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, “সেগুলো ঠিক করতে হবে, ঝগড়াঝাঁটি না করে সঠিক মানুষটিকে নির্বাচিত করতে হবে… আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবেন।”

বিএনপি দেশের মানুষের উন্নতির জন্য, শান্তিতে থাকার জন্য রাজনীতি করে বলে দাবি করে তিনি বলেন, “বিগত সময়গুলোতে আমরা শান্তিতে থাকতে পারিনি। ১৫ বছর পর খারাপ সময় পার করেছি। এখন সুসময় এসেছে। দেশে একটা ভালো নির্বাচন হবে। সবাই ভোট দিতে পারবে। এরকম একটা আশা জেগেছে।”

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মাফ করে দেওয়া, ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, জানিয়ে ফখরুল বলেন, “শিক্ষিত বেকারের জন্য ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে, সকল ধর্মের মানুষেরা শান্তিতে থাকবেন।”

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত