ভারতের ওপর ৩২ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করলেন ট্রাম্প

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ |  আপডেট  : ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৯

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপের পর ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এক লাফে ৩২ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত জানান। আগে যেখানে ভারতীয় পণ্য আমদানিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর ছিল, এখন থেকে তা মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসবে। মূলত নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত অনুরোধ এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়েই ট্রাম্প এই তাৎক্ষণিক ও প্রভাবশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এই চুক্তির ফলে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' ট্যাগযুক্ত পণ্যগুলো এখন থেকে অনেক কম খরচে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, যা ভারতীয় রপ্তানি খাতের জন্য এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান যে, ১৪০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে তিনি এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। মোদি উল্লেখ করেন, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং শক্তিশালী অর্থনীতি যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে, তখন তা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। এই শুল্ক হ্রাসের ফলে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও পীযূষ গোয়েল এই চুক্তিকে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এর ফলে ভারতের কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

তবে এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে বড় ধরণের কিছু শর্ত ও প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় ভারত আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের জ্বালানি, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি পণ্য এবং কয়লা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত এখন থেকে রাশিয়া থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করবে এবং এর বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি আমদানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। যদিও শুল্ক কমানোর বিষয়টি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে রুশ তেল বর্জন এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কেনাকাটার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে বিশাল কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হলেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, এত বড় একটি চুক্তির তথ্য ভারত সরকারের আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রকাশ পাওয়াটি হতাশাজনক। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা দীর্ঘমেয়াদে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক প্রভাব যেমন বাড়বে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করাও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কা/আ 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত