বাংলাদেশ ও চীন ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১৫:০৬ |  আপডেট  : ১১ জুন ২০২৬, ২১:৪৫

দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাস্তবায়ন চুক্তি (ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখা) ড. মো. মোকছেদ আলী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর সং ইয়াং।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (আরএইচডি), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং চীন সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর বগা ফেরিঘাটের ভাটিতে নির্মিত হবে।

বর্তমানে বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার লাখো মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য বগা ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরশীল। সেতুটি নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতু এবং ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক থাকবে।

প্রকল্পের আওতায় মূল সেতু ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অনুদান হিসেবে দেবে চীন সরকার। অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সেতুর বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও চূড়ান্তকরণের কাজ সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুরু হবে নির্মাণকাজ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন সহজ হবে। এতে কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত