গতবছরের তুলনায় প্রায় ২০০ হেক্টর বেশী জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে
কাউনিয়ায় তিস্তার চরে কৃষিতে বিপ্লব
সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০১ | আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৫
তিস্তার চরের পলি যুক্ত বালুময় জমিতে ভুট্টা চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় চাষিরা ব্যাপকভাবে চাষ করছেন। তিস্তা নদীর জেগে উঠা চরজুড়ে যে দিকে চোখ যাবে সে দিকে শুধু সবুজের সমারোহ। চর জুরে সবুজ আর সবুজে ভরে গেছে ভুট্টাখেতে। তিস্তার বালুচরে ভুট্টা চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তনে বিভোর চরের চাষিরা। অল্প খরচে অধিক ফলন এবং বেশী লাভ হওয়ায় রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর জেগে উঠা চরসহ চরাঞ্চল বেষ্ঠিত গ্রাম গুলোতে ভুট্টা চাষের বিপ্লব ঘটেছে। চলতি মৌসুমে গতবছরের তুলনায় প্রায় ২০০ হেক্টর বেশী জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। চাষিরা ভুট্রার বাম্পার ফলনের আশা করছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর জেগে উঠা চর যেন সবুজের পরসা সাজিয়ে বসেছে প্রকৃতি। কৃষকের হৃদয় নিংড়ান ভালবাসায় ২২টি চর জুড়ে লক লক করে বেড়ে উঠছে ভুট্টা ক্ষেত। তিস্তা নদী বেষ্ঠিত যে সব চরে কোন ফসল হতো না সে সব চরের জমিতে এখন ভুট্টার চাষ হচ্ছে। মাইলের পর মাইল জুড়ে পলি মিশ্রিত বালু মাটিতে সব ধরনের ফসল ফলানো যায়। অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্টার ফলন হচ্ছে বাম্পার। তাই চরের চাষিরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন অনেক আগে থেকেই। অল্প খরচ আর অধিক ফলন এবং বেশী লাভ হওয়ায় তিস্তা নদীর জেগে উঠা চরসহ বিভিন্ন গ্রামের বেশীরভাগ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছে চাষীরা। উপজেলার প্রাননাথচর, নাজিরদহ চর, আরাজি হরিশ্বর, চর বিশ্বনাথ, চর আজম খাঁ, চর গনাই, চরগদাই, গুপিডাঙ্গা, চর চতুরাসহ ২২ টি চরে দিগন্ত মাঠ জুড়ে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চর ঢুসমারা চরের ভুট্টা চাষি তাজুল জানান তিনি ১বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। ফলন মোটামুটি ভাল এসেছে, সেই সাথে ভাল দাম পাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন। নাজির দহ গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান তিনি এবার ২একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। সে ৬০ থেকে ৬৫ মন ভুট্রা ফলনের আশা করছেন। তিনি আরও জানান ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য ও গাছ রান্নায় জ্বালানীর কাজে ব্যবহার হয়।
গদাই গ্রামের ভুট্টা চাষী রবিউল ও ফুল মিয়া হাজি জানান ভুাট্টা চাষে সামান্য সমস্যা রয়েছে তা হলো মাড়াই ও বাজারজাত করন। এ ছাড়াও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংক ঋনের অভাব। কৃষকরা সহজ শর্তে কিস্তিতে মারাই মেশিন, কৃষি ঋণ, চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষন, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সংরক্ষনাগার ও বিপনন ব্যাবস্থা চালুর দাবী জানান। কৃষি সম্প্রসারন দপ্তর জানায় উপজেলায় ৭৯৪ হেক্টর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্দারন করা হলেও এখন পর্যন্ত ৯৯০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯১৩১ মিঃটন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। অবহাওয়া ভাল থাকায় ফলন ভাল হবে আশা করছেন। ভুট্টার আশানুরূপ ফলন আর দামে লাভবান হবেন চরাঞ্চলের চাষিরা। এছাড়া কৃষকদের প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত