পঞ্চগড়ে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান

উত্তরবঙ্গ গরীব নয়, গরীব করে রাখা হয়েছে

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৮ |  আপডেট  : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৪০

জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সকলের হাতে মর্যাদার গাছ তুলে দিতে চাই, আমাদের প্রত্যেকটা যুবক যুবতী ও প্রত্যেক নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই। আমাদের হাতে কোন কার্ড নাই।

তিনি শুক্ররবার (২৩ জানুয়ারী) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির হিসেবে  বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরীব নয়, গরীব করে রাখা হয়েছে, সেই বঞ্চণার সাথে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সাথে আচরণ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ, এই উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্ঠি সরবরাহ করে, আর সেই উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছে করে এবং ষড়যন্ত্র করে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।

ড.শফিকুর রহমান বলেন, গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলেি দতে করতে চাই। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে নিতে চাই। আমাদের হাতে কোন কার্ড নাই, আপনারা সকল ভাই বোনরা  আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের  সমর্থন,দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আগামিতে বেকার এবং দায় দয়ামুক্ত একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারো দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোন এলাকার মানুষ বসবাস করবে তা আমরা দেখতে চাইনা।

আমীর বলেন, কে কার উপড় দয়া করে, জনগনের ট্যাক্্েরর টাকায় পরে ধনে পোদ্দারি এ আমরা করবো না। আমরা যুবকের হাত শক্তিশালী করবো, যুবতীর হাত শক্তিশালী করবো। পরিবার যেমন নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সমাজের সবচাইতে ক্ষুদ্র এবং সমাজের ভিত্তি হিসেবে  পরিবার যেমন গড়ে ওঠে, আমরা নারী পুরুষ মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। এদেশকে চাঁদামুক্ত , দুনীতি মুক্ত , আধিপত্য মুক্ত করা হবে। এই আন্দোলন চলতে থাকবে।

তিনি আরো বলেন,এতো দিন টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া হয়েছে,এখন বেলেন্স হওয়া দরকার। এখন হবে, তেতুঁলিয়া থেকে টেকনাফ। বিশাল চারটা নদী, তিস্তা ধরলা, করতোয়া ব¤্রপুত্র আল্লাহর দান, আল্লাহর নিয়ামত। এই নদী গুলো মরে গেছে, এই নদী গুলো কে খুন করা হয়েছে। এদেশের কি কোন মা বাবা ছিলনা , তাহলে আমার এই নদী গুলো মরে গেলো কেন!   

আমীর বলেন , ও জনগনের প্রতি পাঁচ বছরে একবার দরদের হাত দেয়, জন দরদ উতলে ওঠে। বাকি সাড়ে চার বছর ওদেরকে আর হারিকেন জ্বালিয়ে  খুঁজে পাওয়া যায়না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিল ,বসন্তকাল আসলে বরে উহু উহু। আমরা এই রাজনীতিকে আমরা ঘৃনা করি।

তিনি বলেন দেশের ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলবো। চিকিৎসা করতে গিয়ে রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এটা আর হবেনা, পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। বলবেন টাকা কোথায় পাবো, ওই ১৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়ছে,সেই টাকা হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করে আনা হবে। ‘সবার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।’ ক্ষমতায় গেলো দেশের মালিক হবোনা, সেবক হবো।

পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল আলিম জাতীয় নাগরিক  পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও ১০ জোটের পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম, জামায়াতের পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি) ও জাগপার মূখপাত্র  প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান।

আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) পঞ্চগড় জেলার প্রধান সমন্বয়ক আ্যডভোকেট জুল ফিকার আলী নয়ন , জেলা জাগপার সাধারন সম্পাদক  শাহরিয়ার বিপ্লব প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী দেলোওয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম ও পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের (সফিউল্লাহ সুফি) হাতে প্রতীক তুলে দেন।সমাবেশস্থলে সকাল আটটার পর হতে জেলা উপজেলা থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সমবেত হন।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত