সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ১০:৫৩ |  আপডেট  : ২ মে ২০২৬, ১১:৫৩

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অতিরিক্ত ডিভাইস-আসক্তি থেকে নিরাপদ রাখতে ক্রীড়া চর্চা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।শনিবার (০২ মে) ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশু-কিশোরদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং দলগত ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করবে, যা হবে একটি আদর্শ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের মূলভিত্তি।

তারেক রহমান বলেন, যেসব কিশোর-কিশোরী খেলাধুলায় নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে, তারা যেন ভবিষ্যতে কোনো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় না পড়ে এবং নিশ্চিন্তে খেলাধুলাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, সরকার ইতোমধ্যে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্রীড়াবৃত্তি, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা আজ কেবল নিছক বিনোদন বা অবসরে শরীরচর্চা নয়; বিশ্বজুড়ে এটি একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত। দেশের জনগণের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা ক্রীড়াকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব এবং খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। ইতোমধ্যে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে নতুন ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য একটি টেকসই ও পেশাদার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারাদেশ থেকে অন্বেষিত ক্রীড়া প্রতিভাগুলোকে পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্ফুটিত করা, যাতে অদূর ভবিষ্যতে এই খুদে ক্রীড়া প্রতিভাগুলো থেকেই বিভিন্ন স্পোর্টস ইভেন্টে দেশ সেরা ক্রীড়া তারকা তৈরি হয়। আমাদের পরিকল্পনা সফল হলে এই তারকারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরতে পারবে, ইনশা আল্লাহ।

‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের যে ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে, তারই অনুপ্রেরণায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এবার সারাদেশ থেকে খুদে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে আনতে বর্তমান সরকারের এই নতুন প্রয়াস।’

তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি টেকসই এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আমি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত