রাজশাহীতে প্রতারণা করে গাড়ি নিয়ে যুবদল নেতা তন্ময় লাপাত্তা
অনলাইন ডেস্কনাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১২ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৫
রাজশাহীতে ট্রায়াল দেওয়ার নামে প্রতারণা করে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন যুবদল নেতা এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়। দেড় মাস আগে এ ঘটনা ঘটলেও তিনি গ্যারেজ মালিককে গাড়ি ফেরত দেন নি। উল্টো গ্যারেজ মালিক নূর আহমদকে তিনি প্রতিনিয়ত দলীয় দাপটে প্রাণনাশসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তন্ময় রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বর্তমানে দফতর সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ থানায় অভিযোগ দিলেও নেয়নি। একারণে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। বিষয়টি তিনি মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েও প্রতিকার পান নি। অবেশেষে তিনি রোববার দুপুরে মহানগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদের সহোদর মোহাম্মদ আলী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মহানগরীর বন্ধগেট এলাকায় নূর আহমদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে তিনি গাড়ি মেরামতের কাজ করেন। পাশাপাশি বৈধভাবে গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা রয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে নূর আহমেদের গ্যারেজে গাড়ি কেনার জন্য যান যুবদল নেতা তন্ময়। তিনি গ্যারেজে থাকা একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। এসময় তন্ময়ের সাথে গাড়ির দর দাম ছয় লাখ টাকায় দফারফা হয়। এরপর তন্ময় গাড়িটি ট্রায়াল দেবার কথা বলে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি আর ফিরেন নি। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর নূর আহমেদ ফোন দিলেও ধরেন নি তন্ময়। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, পরের দিন তন্ময়কে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। পরে যোগাযোগ করছি। এরপর নূর আহমেদ কয়েকদিন ফোন দিলেও তিনি ধরেন নি। একপর্যায়ে ফোন ধরে তন্ময় বলেন, দলের চেয়ারপারসন অসুস্থ। আমি এভারকেয়ারে আছি। রাজশাহী এসে ফোন দিচ্ছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। রাজশাহী ফিরলে যুবদল নেতা তন্ময়কে ফোন দেওয়া হয়। এসময় তিনি নূর আহমেদকে বলেন, তোর যা করার আছে কর। আমি যুবদলের নেতা। যা পারিস, তা করে দেখা। তুই থানাতে গেলেও আমার নামে মামলা নেবে না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলব। এরপরেও তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে নূর আহমেদ বলেন, আমি গত ১৪ ডিসেম্বর মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু ওসি মামলা নেন নি। আসামি প্রভাবশালী হবার কারণে আমাকে তিনি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। অবশেষে গত ২২ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে (রাজপাড়া) মামলা দায়ের করি। বিষয়টি মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।#
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত