নন্দীগ্রামে ক্যান্সারে আক্রান্ত সুলতানের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও শারমিন আরা

  নাজমুল হুদা , নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি :

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৫১ |  আপডেট  : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৩:১৭

মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা। শেষ সম্বল বিক্রি করে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা অসহায় এক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় আব্দুল হাকিম সুলতান (৪৫) এর বাড়িতে ছুটে যান  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা। সেসময় তিনি সুলতানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও কম্বল তুলে দেন। তার এমন মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন সুলতান ও তার পরিবার। সহায়তা পাওয়ার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। 

জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল হাকিম সুলতান দীর্ঘ তিন বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। চিকিৎসার পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি তাদের ৩৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছে। তবুও তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

একসময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সুলতান। কিন্তু অসুস্থ হবার পর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারে না। ফলে পাঁচ মেয়েকে নিয়ে তার পরিবার এখন চরম অর্থ সঙ্কটে দিন পার করছে। সুলতানের ক্যান্সারের অপারেশন করা হয়েছিলো বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু অপারেশনের পর তার শারীরিক অবস্থা আরো জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী থাকায় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণাও বাড়ছে তার। রমজান মাসেও পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অনেকদিন সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে শুধু পানি খেয়েই। সুলতানের বৃদ্ধ পিতা আমজাদ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের চিকিৎসা করাতে যা ছিলো সব শেষ হয়ে গেছে। জমিজমাও বিক্রি করেছি। এখন সংসার চালানোর মতো কিছুই নেই। আমাদের ইউএনও স্যার যে সহায়তা করলেন, তা কখনো ভুলবো না। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুলতানের বিষয়টি জানার পর আমি নিজেই তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারি বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরো বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এগিয়ে আসে, তাহলে সুলতানের মতো অসহায় মানুষদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।


কা/আ 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত