রাজশাহীতে এবারও চামড়ার দাম কম লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

  নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ১ জুন ২০২৬, ২১:৩৩ |  আপডেট  : ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫০

রাজশাহীতে গতবারের মত এবারও সরকারি দরের চেয়ে কমদামে চামড়া বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চামড়া কিনে এবারেও লোকসানে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।  বৃহস্পতিবার ঈদের দিন কোরবানির পর দুপুর থেকে চামড়া সংগ্রহ করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পাড়া মহল্লা থেকে সরকারি রেটের কমে চামড়া কেনেন তারা। প্রতি পিস গরুর চামড়া আকার ভেদে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ছাগল ভেড়ার চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ৫০ টাকায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইদুল আজহায় কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। তবে চামড়ার বাজারে সেই দামের প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিভিন্ন এলাকায় বাজারগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কমে। গত বছরের চেয়ে প্রতি পিস ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। এছাড়া এবারও ছাগলের চামড়া কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার মান না বুঝে অতিরিক্ত মূল্যে চামড়া কেনেন, তাতে লবণ, শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে লাভ হয়না। তাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দাম পাননি। এদিকে ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংক ঋণ আর ট্যানারির পরিশোধের টাকা থাকায় সামর্থ্য অনুযায়ী চামড়া কিনেছেন। কোনো কোনো আড়তে ১৮ থেকে ২০ হাজার চামড়া মজুর দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন এবারে আবহাওয়া ভালো থাকায় চামড়া পচার সম্ভাবনা কম ছিলো। রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রæপের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে লাম্পিসহ ত্রæটিপূর্ণ চামড়ার ব্যাপারে আমরা আগেই ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। যাঁরা ত্রæটিপূর্ণ চামড়া কিনেছেন, তাঁরা দাম পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। চামড়া কেনার সময় বিষয়টি খেলায় রাখা উচিত ছিল। ভালো চামড়ার উপযুক্ত দাম দিতে কোনো কার্পণ্য নেই। কোরবানির আগে-পরে বাজার যাচাই করা জরুরি।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত