মব সন্ত্রাসে দেড় বছরে নিহত ২৮০

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৯ |  আপডেট  : ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫২

কোনো ঘটনার পূর্বাপর না ভেবে এক শ্রেণির জনতা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে করণীয় কী। কখনো না বুঝেই ছুটছে ঘটনার পেছনে। আইন তুলে নিচ্ছে নিজেদের হাতে। যার ফলাফল হত্যা, হেনস্তা কিংবা লাঞ্ছনা। সংক্ষেপে যাকে বলা হচ্ছে ‘মব সন্ত্রাস’। অতীতে থাকলেও সবশেষ দেড় বছরে মব সন্ত্রাসে নিহত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে কয়েক গুণ।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে মব সন্ত্রাসে নিহত হয়েছে ২৮০ জন। মব সন্ত্রাস ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বক্তব্যও দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।

কখনো ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’, কখনো ‘তৌহিদি জনতা’র নামে সংঘটিত হচ্ছে এ অপরাধ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে এসব ঘটনা। সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যম, ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানও আক্রান্ত হয়েছে। এর হাত থেকে রক্ষা পাননি বাউল, নিরীহ মানুষ, শারীরিক প্রতিবন্ধীও।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্বের প্রথম পাঁচ মাসে মবের শিকার হয়ে নিহত হন ৯৬ জন। সরকারের ১৭ মাসে (২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) মবের শিকার হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে ২৮০ জনকে। ২০২৪ সালের আগস্টে মবের শিকার হয়ে নিহত হন ২১ জন, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন, অক্টোবরে ১৯ জন, নভেম্বরে ১৪ জন এবং ডিসেম্বরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৪ জন।

ইচ্ছা করলেই কি আইন হাতে তুলে নেওয়া যায়?

দেশের আইন অনুযায়ী, অপরাধী হলেও ব্যক্তিকে মারধর বা পিটিয়ে হত্যার সুযোগ নেই। যারা আইন হাতে তুলে নেবেন, তারাও অপরাধী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পিটিয়ে মানুষ হত্যায় অনেক ক্ষেত্রে জড়িতদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা কম। সরকার মৌখিকভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও মাঠপর্যায়ে তা ঠেকাতে পারছে না।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত বছরের আগস্টে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের দুটি বড় ব্যর্থতা হচ্ছে মব সন্ত্রাস ও ঢালাও মামলা। মব সন্ত্রাস দমন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, পুলিশ মোরাল (নৈতিক অবস্থান) ছিল না। যে পুলিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিপক্ষ ছিল, সেই পুলিশ যখন দেখে গণঅভ্যুত্থানের দাবিদার বলে কিছু মহল মব করছে, তখন সেটা দমন করতে পারেনি।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বৈশ্বিক ঘোষণা অনুযায়ী, মব-সহিংসতার কারণে মানবাধিকারের বড় লঙ্ঘন হয়। ঘোষণার ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনালের অধীনে সবার সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সরকারের সতর্কতায়ও থামেনি মব

২০২৫ সালের ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মবের প্রতিটি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর। কেউ যাতে আইন নিজ হাতে তুলে না নেয়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে এই সতর্কতার পরও মব সৃষ্টি করে বেশকিছু অপরাধ সংঘটনের ঘটনা দেখা যায়। ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে মব সৃষ্টি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদসহ কয়েকজন এই টাকা নিয়ে আরও ৫০ লাখ চাঁদা দাবি করেছিলেন। দ্বিতীয় দফা টাকা আনতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গুলশানসহ রাজধানীতে এর আগে এমন আরও ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকার পরিস্থিতি বেশি খারাপ ছিল। সেখান বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের অভিযোগও আছে।

সরকারের পক্ষ থেকে মব সন্ত্রাসের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও ঠেকানো যায়নি নৃশংসতম এ অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মব ঠেকাতে উদ্যোগ নিলেও খুব বেশি কার্যকর হয়নি মাঠপর্যায়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীসময়ে আইন হাতে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমণ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে, যা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও কখনো কখনো মবের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কখনো কখনো নিজেদের বাঁচাতে অপরাধ দমনের চেষ্টা না করে তারাও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।

এমন ঘটনা সবশেষ ঘটে রংপুর জেলার তারাগঞ্জে। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট সেখানে ভ্যানচোর সন্দেহে দুই নিরপরাধ মানুষ—রূপলাল দাস ও প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক প্রদীপ লালকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও মবের ভয়ে তাদের উদ্ধার না করে ফিরে যায়।

মবের পরিসংখ্যান
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সহিংসতায় অন্তত ১৮৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৭৮ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে নিহত হন ৩২ জন।

এছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মব সন্ত্রাসের কারণে নিহত হন ১৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ১৮ জন, মে মাসে ১৩ জন, জুনে ১১ জন, জুলাই মাসে মব সন্ত্রাসের কারণে নিহত হন ১৪ জন, আগস্টে ২১ জন, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন, অক্টোবরে ১৩ জন ও নভেম্বরে মব সন্ত্রাসের কারণে নিহত হন ১৯ জন। নিহতদের মধ্যে ঢাকার বেশি।

২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে মব সন্ত্রাসে নিহত হন ১১৪ জন, ২০২৩ সালের প্রথম ১১ মাসে ৪৯ জন, ২০২২ সালের প্রথম ১১ মাসে ৩১ জন ও ২০২১ সালের প্রথম ১১ মাসে মব সন্ত্রাসে নিহত হন ২৮ জন।

২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বেশি মারা যান ৭০ জন।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও পুলিশ কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে ঘটনাস্থলে অধিক লোকের জড়ো হওয়া দেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার অভিযোগ রয়েছে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ‘পালস সার্ভে ৩’র জরিপে দেখা যায়, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ মব সহিংসতা নিয়ে উৎকণ্ঠিত। নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা জানিয়েছেন ৬১ শতাংশ মানুষ, যাদের ৫৬ শতাংশ পুরুষ আর ৬৬ শতাংশ নারী। পোশাকের জন্য রাস্তাঘাটে হয়রানি নিয়ে উৎকণ্ঠিত ৬৭ শতাংশ মানুষ। তাদের ৬৩ শতাংশ পুরুষ আর ৭১ শতাংশ নারী।

২০২৫ সালে বিভিন্নভাবে হয়েছে মব

২০২৫ সালে তৌহিদি জনতার নামে বেআইনিভাবে মব তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা—এমনকি কবর থেকে তুলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিরুদ্ধমতের মানুষকে নানাভাবে হেনস্তা করার ঘটনাও ঘটেছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে একই দিনে হামলা চালিয়ে আগুন দেয় ‘তৌহিদি জনতা’। প্রথম আলোর সামনে হেনস্তার শিকার হন সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল কবীর। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যায়।

বিদায়ী বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। মব সৃষ্টি করে তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে মারা যান।

বছরের শেষ দিকে আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ভালুকায়। ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে’ পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় কারখানার সামনে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় লোকজন বিক্ষোভ করে তার লাশে আগুন ধরিয়ে দেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল, মরমি শিল্পী, লোকসংগীতশিল্পী, মঞ্চ ও যাত্রাশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের ওপরও ধারাবাহিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বাউলদের ওপর হামলার পাশাপাশি মাজার ভাঙার অনেক ঘটনাও ঘটেছে।

আওয়ামী লীগ আমলেও ছিল মব

২০১৯ সালে ছেলেধরা সন্দেহে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তসলিমা বেগম রেণু নামে এক নারী হত্যার ঘটনা নিশ্চয় মানুষ এখনো ভোলেনি। ২০১১ সালে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে ঢাকার অদূরে সাভারের আমিনবাজারে ওই ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এছাড়া ২০১১ সালের ২৭ জুলাই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া এলাকায় ডাকাত সাজিয়ে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও মানুষকে এখনো নাড়া দেয়। পুলিশ গাড়িতে করে এনে জনতার হাতে এই কিশোরকে ছেড়ে দেয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতেই মিলনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ইউটিউবার হিরো আলম ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা–১৭ আসনের উপ-নির্বাচনের সময় হামলার শিকার হন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাতের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় আদালত চত্বরে কয়েকজন যুবক হিরো আলমের ওপর ফের হামলা চালায়। সরকার পতন হলেও হিরো আলমের ওপর হামলা থামেনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এখানে যা খুশি তা বলা যায়। এখানে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। মব তৈরি করা হচ্ছে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নিজেদের মতের সঙ্গে না গেলে মবতন্ত্রের (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) মাধ্যমে বই পোড়ানো ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে হামলার সংস্কৃতি ফেরানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।

রেহমান সোবহান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংস্কৃতি, যা আদতে আপনাকে নাৎসি জার্মানি এবং সেই সময়ে তাদের চালু করা বই পোড়ানোর সংস্কৃতির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আমি আশা করছি, আমরা সম্ভবত তুলনামূলক একটি ভালো গণতান্ত্রিক সময়ের নতুন এই যুগে এ ধরনের সংস্কৃতির মুখোমুখি হবো না।’

গণপিটুনির ঘটনাগুলোতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে ঘটনা সংঘটনের পরপরই জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ায় বা প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে এসব কারণে কোনো ঘটনাই তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে না। প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মবের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে মব সন্ত্রাসকে সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে সংঘটিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লাগছে বলে মনে হচ্ছে—এ নিয়েই মূলত প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এ আইনি প্রক্রিয়ায় যেন অযথা দীর্ঘসূত্রতা না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী বা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।’

 

সৌজন্যেঃ 

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ,জাগো নিউজ 

কাজী/গ্রামনগর 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত