ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে তেল কোম্পানিগুলো: ট্রাম্প  

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫ |  আপডেট  : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৮

ভেনেজুয়েলায় দ্রুত বিনিয়োগে ফেরার আহ্বান জানিয়ে দেশটির তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যের কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন যে, বিনিয়োগ করলে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা’ পাবেন।

বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে। আপনারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। আমরা চাই না আপনারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করুন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের বড় তেল কোম্পানিগুলো অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে—এটি সরকারের অর্থ নয়, তাদের নিজস্ব অর্থ। তবে তাদের সরকারের সুরক্ষা দরকার।

এই বৈঠকের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার তেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করে। গত এক মাসে এটি পঞ্চম ঘটনা। এতে স্পষ্ট হয়, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি, পরিশোধন ও উৎপাদনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসন কতটা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানায়, ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ছিল শেভরন, যা এখনও ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে, পাশাপাশি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপস—যাদের প্রকল্প ২০০৭ সালে জাতীয়করণের সময় হারিয়ে যায়। এছাড়া হলিবার্টন, ভ্যালেরো, ম্যারাথন, শেল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ট্রাফিগুরা, ইতালির এনি ও স্পেনের রেপসোলসহ দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নেয়।

এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগযোগ্য নয়। বাণিজ্যিক কাঠামো, আইন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।

অনিশ্চয়তায় কোম্পানিগুলো

ইউসিএলএর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বেঞ্জামিন র‍্যাড জানান, ভেনেজুয়েলায় ফেরার বিষয়ে তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখনও দ্বিধা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকলে এই বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণই থাকবে।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক এক মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হয় এবং কী ধরনের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়—তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ।

সমালোচনা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক সিটিজেন নামের ভোক্তা অধিকার সংগঠনের জ্বালানি কর্মসূচির পরিচালক টাইসন স্লোকাম এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য মূলত ‘কোটি কোটি ধনকুবেরের হাতে ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া’ ।

এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়নি, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয় কীভাবে বণ্টন হবে বা কত অংশ কারাকাস পাবে। বিশেষজ্ঞ র‌্যাচেল জিয়েম্বা সতর্ক করে বলেন, যদি এই অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে না যায়, তাহলে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।

এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা জানায়, তারা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত