ভাসমান সবজি চাষে কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ২১:১৩ | আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ১৭:০১
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের নিম্না লে জলাবদ্ধতার কারণে আবাদ না হওয়া অনেক জমি পতিত থাকতো। কিন্তু এখন সেখানে বন্যাসহিষ্ণু ভাসমান বেডে সবজি ও মশলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে অনাবাদি জমিতে উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। কচুরিপানা, কলাগাছ ও বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি ভাসমান বেডে বিভিন্ন প্রকার সবজির ভালো ফলন হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। জলাবদ্ধতা এবং বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকরা যাতে এভাবে সারা বছর সবজি চাষ করতে পারে, তাই ফকিরহাটে এবছর অনেকগুলো প্রদর্শনী পট করে দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর (২০২১) নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নে প্রায় ২৪টি ভাসমান সবজি বেড আছে। এসব বেড গড়ে দেড় মিটার চওড়া ও ৬০ মিটার লম্বা। দুই বেডের মধ্যে এক থেকে দু মিটার দুরত্ব রাখা হয়। ম‚লত নৌকায় করে সবজি সংগ্রহ, আগাছা পরিস্কার, বালাই দমনের সুবিধার জন্য এরকম আকৃতির বেড তৈরি করা হয়।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) উপজেলার নলধা এলাকার কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ সবজি খেত অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কখনও ডুববে না, সেচের প্রয়োজন পড়বে না, কীটনাশক দিতে হবে না, এমনকি সারেরও প্রয়োজন হবে না। এটা আমাদের কাছে ¯^প্নের মতো। তিনি জানান, তার মোট ১২টি সবজির বেড আছে। এতে ঢেঁড়স,পটল,লালশাক, ঘৃতকা নশাক,টমেটো, লাউসহ বিভিন্ন শাক সবজি চাষ হয়। বাজারে এসব সবজি বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে তার। ভ্রা¶ডাঙ্গা এলকার বাসিন্দা কৃষক নারায়ন চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রথমে কয়েকজনকে কৃষককে চাষাবাদ করতে দেখি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এ পদ্ধতিতে কম খরচে চাষাবাদ করে যথেষ্ট লাভ হয়। সে কারণে আমিও এবার ৪টি বেড তৈরি করে কলমি শাক, ঢেঁড়স, মিষ্টি পটল,লালশাক, ঘৃতকা নশাক,টমেটো, লাউসহ বিভিন্ন শাক সবজি চাষ হয়। বাজারে এসব সবজি বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে তার।
ভ্রাক্ষডাঙ্গা এলকার বাসিন্দা কৃষক নারায়ন চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রথমে কয়েকজনকে কৃষককে চাষাবাদ করতে দেখি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এ পদ্ধতিতে কম খরচে চাষাবাদ করে যথেষ্ট লাভ হয়। সে কারণে আমিও এবার ৪টি বেড তৈরি করে কলমি শাক, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া ও হলুদ চাষ করেছি। সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণেরও বেশি করেছি।’ নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল মজুমদার বলেন, ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা কৃষকদের নিয়মিত তথ্য সহায়তা দেওয়া হয়। কৃষকদের বেড তৈরি করার সময় আমরা সাথে থেকে পরামর্শ দিয়ে থাকি।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাছরুল মিলাত জানান, আগে ফকিরহাটের চাষীরা কখনও ভাসমান বেডে সবজি চাষ করতেন না। প্রথমদিকে এই এলাকার কৃষকদের এ ব্যাপারে অনেক বোঝানো হয়েছে। এতে কিছু চাষী ভাসমান বেডে সবজি চাষ করতে রাজি হন। তাদের ভালো সবজি উৎপাদন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ফলে দিন দিন ভাসমান বেডে সবজি চাষের পরিধি বাড়ছে।#
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত