ভাঙ্গায় দু,দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষঃ বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাট, মহিলাসহ আহত-১০

  মাহমুদুর রহমান(তুরান)ভাঙ্গা(ফরিদপুর)প্রতিনিধিঃ

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২১ |  আপডেট  : ১০ মে ২০২১

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের রাজেশ্বরদী গ্রামে দূ,দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়ি-ঘর ভাংচুর,লুটপাট ও মূল্যবান গাছপালা কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর।খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই গ্রামের রেজাউল করিম ও পিকুল মাষ্টারের সাথে ঝগড়া বিবাদের সুত্রপাত হয়। পরে ওই গ্রামের নিরু খলিফা ও জব্বার মাষ্টার পাশর্^বর্তী গ্রাম হাজরাকান্দা গ্রাম কয়েক,শ লোক পিকুল মাষ্টারের পক্ষ নিয়ে   কয়েক,শত লোক ঢাল,সরকি,রামদা,বল্লম,টেটা প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। সংঘর্ষে মারাত্মক আহতদের মধ্যে আবু মোল্লা(৭০),তার পুত্র একরাম মোল্লা(৩২),বাবুল মোল্লা(৩৪),সালেহা বেগম(৩৫),তরিকুল ইসলাম, দেলোয়ার মাতুব্বর(৫০)। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মচারী রেজাউল মাতুব্বর ওরফে কাদেরের বাড়ি-ঘর,আব্বাস মিয়া সহ ৫/৭টি বাড়ি ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়। হামলাকারীরা ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে ঘরের দরজা,জানালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র,রক্ষিত টাকা –পয়সা লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় তারা কয়েক বিঘা জমির কলাগাছ,গাছপালা কেটে বিনষ্ট করেছে। হামলার ঘটনায় মহিলারা চরমভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়ে। দুস্কৃতকারীদের অশালীল আচরণ ও হামলায় বেশ কয়েকজন মহিলা আহত এবং আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। 

বাড়ি-ঘরে হামলার শিকার রেজাউল করিমের স্ত্রী ফারজানা আক্তার জানান, অতর্কিতভাবে দুস্কৃতকারীরা দেশীয় অস্ত্র উচিয়ে ঘরের দরজা-জানালা ভেঙ্গে ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে টাকা-পয়সা, স্বর্নালংকার লুটপাট করে নিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, দুর্বত্তদের হামলার ঘটনায় আমরা চরম ভীতসন্তস্ত্র হয়ে পড়ি। তারা যাকে যেখানে পেয়েছে সেখানেই আক্রমন করেছে,মহিলাদের সাথে আচরন করেছে। আবুল বাশার হাওলাদার বলেন,আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিরু খলিফা ও জব্বার মাষ্টার গংরা পরিকল্পিতভাবে হাজরাকান্দা গ্রামসহ ৫/৭টি গ্রাম থেকে ভাড়া করা লোক নিয়ে আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ধ্বংসস্তপে পরিনত করেছে। এ সময় গরুর খামারে থাকা ৩টি গরু তারা লুটে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় মিজান মাতুব্বর বলেন,তারা বাড়ি-ঘর ভাংচুরের পাশাপাশি কলা বাগান,সবজি বাগান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। 

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈযদ লুৎফর রহমান বলেন, 'তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু,দল গ্রামবাসী নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্যই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত