বৃষ্টির মধ্যে পলেথিন দিয়ে জরাজীর্ন বসবাস

বর্ষায় মাদারীপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বসবাসের অনুপযোগী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৫, ১৫:৪১ |  আপডেট  : ৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৯

ঘন বর্ষা মওসুম, থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে অবিরত। এই বর্ষায়  মাদারীপুর জেলার কালকিনির উপজেলার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো পলিথিন ও পাটখড়ির দিয়ে আবদ্ধ। ইট-বালু খুঁটির ওপর লোহার সঙ্গে থাকা টিনে মরিচা ধরে খসে পড়ায় ঘর থেকেই আকাশ দেখা যাওয়ায় বৃষ্টির পানি পড়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোনো মতে মানবেতর ভাবে ঘরগুলোতে বসবাস করছেন তারা। তবে ঘরগুলো দ্রুত মেরামত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের
বসবাসকারীরা। 
এদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে, বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে জরাজীর্ণ ঘরগুলো। আর অসহায় পরিবারগুলোর দাবি, এ বর্ষার আগেই অন্তত ঘরের টিনগুলো পরিবর্তন করার। 
৭০ বছর বয়সী আলি আহমেদ হাওলাদার । জায়গা-জমি না থাকায় ২০০২ সালে মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলে সরকারি ঘরে। কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের কোলচরি সস্তাল এলাকায় খালের পাশে নির্মিত সরকারি অশ্র্রয়ণ প্রকল্পের ঘরেই কেটেছে তার পরিবারের ২৫ বছর। শুধু আলী আহমেদ নয় এই আশ্রয়ন ঘরের আটটি ব্যারাকে বসবাস করে ৮০ টি পরিবার। তবে বর্তমানে আশ্রয়ণের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাকা মেঝে ভেঙে গেছে। টিনের চালায় মরিচা ধরে
ছিদ্র হয়ে গেছে। লোহার অন্য সরঞ্জামেও মরিচা ধরেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ফুটো চাল দিয়ে পানি পড়ে। তাই বৃষ্টির দিনে নির্ঘুমে রাত্রি যাপন করেন এই পরিবারগুলো।
বসবাসকারী আমিন উদ্দিন হাওলাদার বলেন বর্ষায় পানি বাইরে না পরে ঘরে পড়ে এতে খুব সমস্যা হয়। রহিম খালাসী বলেন অনেক কষ্ট করে এখানে থাকেতেছি। কি করবো জমি থাকলে কি আর ১৬-১৭ বছর কষ্ট করে এহানে থাকি। বুষ্টির জ্বালায় কাথা-কাপড় ভিজে যায় কি করমু।

ভাঙাচোরা ঘরের চালায় পলিথিন দিয়ে ফুটো বন্ধ করে কোনো রকম বসবাস করে আসছি। অন্যত্র সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভাঙাচোরা ও অস্বাস্থ্যকর এ ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করছেতি সকলে। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি নাছিমা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন,ঘর মেরামতের জন্য সরকারি সকল দপ্তরেই আবেদন করেছিলাম। কোন কাজ হয়নি। তবে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিনীন জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো পরিদর্শন করে দেখব। মেরামত করার যোগ্য হলে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বরাদ্দ পেলেই সংস্কার করা হবে আশ্রয়ণের ঘরগুলো।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে কবর স্থান, খেলার মাঠ, সমবায় সমিতির কার্যালয়সহ ৮টি টিনের ব্যারাক রয়েছে। প্রতিটি ব্যারাকে রয়েছে ১০টি করে কক্ষ। আবাসিক জমিসহ প্রতিটি ভূমিহীন ৮০টি পরিবারকে একটি করে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেখানে ৮টি শৌচাগার ও তিনটি গোসলখানা করা হয়েছিল।

 

সান

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত