একটিতে মৃত ব্যক্তির সই

ফেনীর সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

  ফেনী প্রতিনিধি ঃ

প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০ |  আপডেট  : ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে ৩৫টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১২টি মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনে মৃত ব্যক্তির সই পাওয়া গেছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সই কম হওয়া এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় অন্যদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে একজনের স্থগিত, তিন জনের বাতিল ও ছয় জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফেনী-২ (সদর) আসনে ১৪টি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করে পাঁচটি বাতিল ও নয়টি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে ১১টি মনোনয়নের মধ্যে চারটি বাতিল ও সাতটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। 

যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে দেখা যায়, জেলার তিনটি আসনে ছয় জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে সবার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

এ ছাড়া মৃত্যুর কারণে ফেনী-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

ফেনী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, ফেনী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব নবী ভূঁইয়া মো. ইসমাইল ও এসএম হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদের মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সই কম হওয়া এবং যথাযথ না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল হক রিপনের ১ শতাংশ ভোটারের সমস্যা ও ঠিকাদারি প্রকল্প চলমান থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট ভোটারের এক পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। এটি অত্যন্ত দুরুহ এবং কষ্টকর বিষয়। ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনে মৃত ব্যক্তির সই পাওয়া যায় খালেদ মাহমুদের মনোনয়নপত্রে। তিনি যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে মৃত ব্যক্তির নাম পায় নির্বাচন কমিশন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়াসহ ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বৈধ হয়েছে ছয় জনের, বাকি তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, খালেদা জিয়া প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছিলেন। তার ইন্তেকালের কারণে মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটির কার্যক্রম স্থগিত।

এ আসন থেকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া তিন জন হলেন— খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ নাজমুল আলমের আয়কর রিটার্নের কপি জমা না দেওয়া, মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা এবং নিজাম উদ্দিনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় বাতিল করা হয়।

এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, জামায়াতে ইসলামের এস এম কামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) মোতাহের হোসেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গেলাম কিবরিয়া, খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা এবং মুসলিম লীগের মাহাবুব মোর্শেদ মজুমদার।

ফেনী-২ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে মনোনয়ন নিয়েছিলেন ১৪ জন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এয়াকুব নবী ভূঞা এবং কানাডা (পশ্চিম) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। তাদের ভোটারদের ১ শতাংশ স্বাক্ষরে ত্রুটি ছিল। একই কারণে এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইলের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী তাহেরুল ইসলামের এবং আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ ভূঞার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ভিপি জয়নাল, জামায়াত জোটের প্রার্থী আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেএসডির শামসুদ্দিন মজুমদার, বাসদের (মার্ক্সবাদী) জসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা, খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার।

অন্যদিকে খালেদ মাহমুদ ছাড়াও ফেনী-৩ আসন থেকে তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল হক, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাসান আহমদ।

এ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আবু নাসের, জেএসডির আবদুল মালেক, খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী।

যাচাই-বাছাই শেষে ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, ৩টি আসনে ১২টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একটি স্থগিত আছে। এই আসনগুলোতে বৈধ মনোনয়নপত্র ২২টি। নির্বাচনি বিধি মোতাবেক সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

কা/আ 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত