পাবনায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
পাবনা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১১ | আপডেট : ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪
পাবনায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে দেখা মেলেনি সূর্যের। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, আজকের তাপমাত্রা দেশের এবং এ মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। সকাল ৯টায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ ও দুপুর ১২টায় ৭৯ শতাংশ। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কিছুদিন পর তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
এদিকে গত এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গ্রাম বা শহরের পাড়া বা মহল্লার বিভিন্ন অলি গলিতে আগুন জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন অনেকে। সকাল এবং বিকেলের দিকে অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছেন। এতে সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যান চালকদের আয় কমেছে। কাজ সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শ্রমজীবীরা।
শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে অটোরিকশাচালক নাসির বলেন, শীতে মানুষের বাঁচার প্রশ্ন চলে আইছে। এজন্য রাস্তায় মানুষই নাই। যাত্রীর আশায় বসে থাকতে হচ্ছে, আবার এদিক ওদিক ছুটতে হচ্ছে। তবুও যাত্রী নেই। ৫০০/৭০০ টাকা তো দূরে থাক ৩০০ টাকা কামাই করাই জুলুম হইছে। কীভাবে সংসার চলবে সেটাই এখন চিন্তার।
আরেক অটোরিকশাচালক হাসু হোসেন বলেন, শহরে শুধু এখানকার লোকই রিকশা চালায় এমন না। সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগরসহ বিভিন্ন উপজেলার চালকেরা প্রতিদিন ভোরে আসে আর সারাদিন রিকশা চালিয়ে রাতে ফিরে যান। কয়েকদিন ধরে তেমন আয় না থাকায় তাদের অনেকে আসছে না।
এদিকে তীব্র শীতে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগে ৭০ জন, নিউমোনিয়ায় ৪০ জন ও ডায়রিয়ায় ৩৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর তীব্র শীত পড়লে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এ মৌসুমেও বাড়ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এখনও তেমন বেশি বাড়েনি। আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ চিকিৎসাটা দেবার।
কা/আ
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত