পঞ্চগড়ে বিএডিসি’র অফিস ভবন ও বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণে অনিয়মের নানা অভিযোগ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫২ | আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:০০
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন পঞ্চগড় জেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী পরিচালকের (বীজ বিতরণ) নবনির্মিত অফিস ভবন ও বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কৃষক পর্যায়ে বিএডিসি বীজ সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ২৪৫ বর্গ মিটার অফিস ও ৩০০ শত মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন বীজ সংরক্ষণাগার (গুদাম) নির্মাণের শুরুতে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি সহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ২ কোটি ২৩ লাখ ৫ হাজার ৬৫০ টাকা। অর্থ বছর ২০২৫-২০২৬ ও টেন্ডার আইডি নং-১১০৩৮০৭। কার্যাদেশ স্বারক নং-১২.০৬.০০০০.২৯০.০৭.১৪৫.২৫-১২৭৬ তারিখ- ১৪/৭/২৫।ভবনের উপড়ে থাকবে অফিস ভবন ও নীচে বীজ সংরক্ষণাগার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অফিস ভবন ও বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণে নির্মাণ সামগ্রি নিম্নমানের। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজে লেআউট দিয়ে ভবনের বেচ ঢালাই সহ বীম নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্মাণ প্রকল্পে দায়িত্বরত প্রকৌশলীর যোগসাজসে ঠিকাদার স্থানীয় ছোটো সাইজের ভাঙ্গা বোল্ডার পাথর দিয়ে ভবন ও সংরক্ষানাগারের কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাতের আধাঁরে মেইন গেট লাগিয়ে নির্মাণাধীন কাজ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে নীচের অংশে দায়িত্বরত প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিতে কাজ চলছিল। এ সময় কর্মরত শ্রমিকরা ঠিকাদারের প্রতিনিধি ও প্রকৌশলী ঠাকুরগাঁও গেছেন। এ সময় তার মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বৃহষ্পতিবার দুপুরের প্রকল্পে সরজমিনে গেলে একই অবস্থা দেখা গেছে। বিএডিসির প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। তবে এসময় ঠিকাদারের নিযুক্ত একজন প্রকৌশলীকে চেয়ারে বসে মোবাইল চালাতে দেখা যায়। প্রকল্পটির অভ্যন্তরে নিন্মমানের পাথর ভাঙ্গা কিছু পাথরের স্তুপ দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, নিন্মমানের ইট দিয়ে নব নির্মিত গেটের নীচের ব্যাচ ঢালাই করা হয়েছে। এছাড়া গেটটির সৌর্ন্দয্য বর্ধনে নি¤œামানের টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ১টি গেটের জন্য ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গেটটি নির্মাণে শুভংকরের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। গেটের কাজে ঝালাই লোহা খুলে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনে খোঁজ নিলে দায়িত্বশীলরা জানায়, এটা আমাদের কাজ নয়। এটা দেখভাল করে বিএডিসি।
এ ব্যাপারে বিএডিসি’র উপপরিচালক (বীবি) ,দিনাজপুর মো. মজাহারুল ইসলামের মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি নির্মাণ সামগ্রি সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করবো এবং প্রকৌশলীর দায়িত্বে অবহেলা থাকলে ও সেটি দেখা হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত