জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বেড়েছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮      

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৮ |  আপডেট  : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩০

অব্যাহত হীমশিতল বাতাসও ঘনকুয়াশায় জনজীবন মারাত্নক ভাবে বিপর্যয় হয়ে পড়েছে।  কয়েকদিনের চলমান হাল্কা ও মাঝারি আকারে বয়ে যাওয়া শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার) সকাল  ৯ টায় জেলার চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এর আগে সকাল ছয়টায় তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেরসিয়াস। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানায়  বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ওই দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।কয়েক দিন ধরে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে না।  শুক্রবা। ভোর থেকেই জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; চালকদের ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে।

চলনান হাল্কা ও  মাঝারি শৈত্য প্রবাহের কারনেবজেলার বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। কনকনে শীতের কারণে অনেকেই  কাজে বের হতে পারছেন না। শ্রমজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এই কনকনে শীতে কাজ করতে পারছেনা। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে দারুন কষ্টে দিন কাটাছে।

এদিকে শীত নিবারণের জন্য ভোর হলেই  মানুষ শীত নিবারনের জন্য খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনে চেষ্টা করছে। এটা শুধু পঞ্চগড়  শহরেই নয় জেলাজুড়ে এই অবস্থা দেখা গেছে। 

এদিকে একুট সুযোগ পেলেই মানুষ বাইরে বেড়িয়ে গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে ছুটছে। বিশেষ করে পুরনো কাপড় ( ডাকের কাপড়) দোকানে কাপড় কিনতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়া সড়কের কোর্ট চত্বর সহ শহরের ভাসমান দোকান গুলোতে বেচাকেনা বেশী লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও  সিনেমা হল মার্কেটের দোকান গুলোতে একই অবস্থা দেখা যায়। 

এবারে শীতের দাপট বেশী হওয়ায় ফুটপাতে হরেক রকম জুতা  ও মোজা সহ নানা রকম ব্যবহারিক পণ্যের দোকানে ভরে ওঠেছে। বয়স্ক ছাড়াও শিশুদের জন্য  এসব দোকানে  কান টুপি,  ক্যাটস, মোজা, ক্যাটস বিক্রি হচ্ছে। বেচা কেনাকেনাও বেড়েছে। 

এদিকে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল ১০ বা তার আগে মেঘ ও কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলোয় পরিবেশ কিছুটা সময় স্বস্তি আনে। এ সময় অনেকে শীত আরো বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় মানুষ গরম কাপড় সহ নানা রকম রকম পণ্য কিনতে শহরে দিকে ছুটে যায়।জানা যায় এবারে শীতে গরম কাপড় ও ক্যাটস জুতার বিক্রি ও বেড়ে।
 
 এদিকে তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি তাপমাত্রাও ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘনকুয়াশা বেড়েছে।  আগামী কয়েকদিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত