টঙ্গীবাড়িতে সড়কের নিচে গোপন সুরঙ্গ কেটে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন
লিটন মাহমুদ
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৪৬ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৭
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা যশলং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নয়াকান্দি গ্রামের দুইটি রাস্তা হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি বরাদ্দকৃত টাকার বিনিময়ে যশলং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাবুর উদ্যোগে এবং বরাদ্দ কৃত এলাকার মেম্বার মাধ্যমে উক্ত রাস্তা দুটি নির্মাণ করা হয়। যার ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হয় এবং সুফল বয়ে আনে।
কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের বিনিময়ে নির্মিত সরকারি দুটি রাস্তায় যশলং ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিজান দেওয়ান পিতা মোঃ রমিজ উদ্দিন দেওয়ান এবং তার অপসঙ্গী আশা খান অবৈধ বালু ব্যবসার জন্য সড়কে দুটি নিচ দিয়ে গোপনে সুড়ঙ্গ কেটে ড্রেজার মেশিনের পাইপ বসিয়েছেন এই দুইজন অসাধু বালু ব্যবসায়ী। কোনো স্থানে রাতের আঁধারে, আবার কোনো স্থানে দিন-দুপুরে বোরিং মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে কাটছে সড়ক। এতে সড়ক ভেঙে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা যায়, এই রাস্তা দুটি নির্মাণ এর আগে উক্ত এলাকার জনগণ যাতায়াতের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। সড়কের নিচে গোপনে সুড়ঙ্গ কেটে ড্রেজার মেশিনের পাইপ বসানোর কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে সড়কের ওপর থেকে ড্রেজারের পাইপ অপসারণ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুনরায় শুরু করেন ড্রেজারের মাধ্যমে বালুর ব্যবসা ৷ সড়ক ছাড়াও এ পাইপ নেয়া হয়েছে ফসলি জমির ওপর দিয়ে। পাকা ও কাঁচা রাস্তার মাটি কেটে নিচ ও ওপর দিয়ে নেয়া হয়েছে ড্রেজারের পাইপ। এসব জায়গায় পাইপের ওপর মাটি ফেলে কয়েক ফুট উঁচু করা হয়েছে। এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি অর্থের বিনিময়ে নির্মিত দুটি রাস্তার সুরঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপলাইন টানা হয়েছে। রাস্তা দখল করে পাইপলাইন নেয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে কৃষিজমি ও রাস্তার ওপর পাইপলাইন নিয়ে রমরমা ব্যবসা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই জন বালু ব্যবসায়ীরা।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মিজান দেওয়ার বলেন রাস্তাটি নিচ দিয়ে বালুর পাইপ নেওয়ার জন্য সুরঙ্গ করা হয়েছে এবং উপর দিয়ে মাটি দিয়ে বরাত করে দেওয়া হয়েছে। অপর অভিযুক্ত আশা খানের সাথে কথা বলার জন্য কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও ফোনটি রিসিভ করেনি।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন উপজেলা প্রশাসনের কঠিন পদক্ষেপের পরেও আশা ও মিজান দেওয়ার কিভাবে এই ফসলের জমি ভরাটের কাজ করে যাচ্ছে তাই প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করেছেন অচিরেই এই শক্তিধর আশা ও মিজান খানকে আইনের আওতায় এনে ফসল জমে বর্ডার থেকে রক্ষা করার জন্য।
এ প্রসঙ্গে যশলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই রাস্তা খনন করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়ে থাকে তাহলে যারা করেছে তাদেরকে রাস্তা মেরামত করার জন্য বলা হবে।
এই বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে বলেন তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত