‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ১৮:৫৩ |  আপডেট  : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:২৯

তরুণ স্বপ্নদর্শীদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে ঘোষিত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ পেলো ১২টি সংগঠন। শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা এবং সিআরআই চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয়।

‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া সংগঠনগুলো ছাড়াও ৩০০টির বেশি সংগঠন নিয়ে ইয়াং বাংলা বর্তমানে তারুণ্যের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এই সংগঠনগুলোসহ ইয়াং বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও ৩ লাখের বেশি সদস্য। ২০২২ সালের মে মাসে ইয়াং বাংলার সদস্য হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

ইয়াং বাংলা’র উদ্যোগে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের’ সপ্তম আসরের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় আজ। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়; যা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। সারা দেশ থেকে আসা ৭৫০টিরও বেশি সংগঠনের আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই বাছাই ও ফিল্ড ভিজিট শেষে ৬ ক্যাটাগরিতে এবার ১২টি সংগঠনকে প্রদান করা হয় ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’।

এবারের পুরস্কারের জন্য গঠিত জুরি বোর্ডে ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর, মুক্তিযোদ্ধা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মখদুম নার্গিস, সাংবাদিক ও আর্টিস্ট এলিটা করিম, অভিনয় শিল্পী মোশাররফ করিম, উদ্যোক্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মালিহা মান্নান আহমেদ, বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক।

‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ধারণ করে তরুণদের দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত প্রদান করা হয় জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। আয়োজক ইয়াং বাংলা জানায়, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলতে এবং বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা দিতেই এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

২০১৪ সালে প্রথম বারের মতো সমাজে বাল্যবিবাহ বন্ধ, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান ও সুস্থদের সহযোগিতা করা যুবক ও যুব সংগঠনকে '‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’-এর আওতায় পুরস্কৃত করা হয়। গত কয়েক বছরে এই পুরষ্কার পাওয়া ব্যক্তি ও সংগঠন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশকে তুলে ধরা ও অন্যদের মাঝে অনুপ্রেরণা তৈরি করা গেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। 

চলতি বছর ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে যে ৬টি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে; সেগুলো হলো- দক্ষতা ও কর্মসংস্থান, শিল্প ও সংস্কৃতি, নিজ সমাজে সুস্থতা ও এ বিষয়ক সচেতনতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু ও পরিবেশ এবং উদ্ভাবন ও যোগাযোগ।

এই ক্যাটেগরির আওতাভুক্ত যে সংগঠনগুলো নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও বিনোদন, জ্ঞান ও সক্ষমতা বিকাশ, অতিদরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি সেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে- তাদের উদ্যোগগুলোতে যাচাই বাছাই শেষে প্রদান করা হচ্ছ এই পুরস্কার।

সপ্তমবারের এই আয়োজনে দক্ষতা ও কর্মসংস্থান ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ‘সম্ভাবনা’ ও ‘ঋতু হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন’; শিল্প ও সংস্কৃতি ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ‘অভিনন্দন ফাউন্ডেশন’ ও ‘টং-এর গান’; কমিউনিটর সুস্থতা ক্যাটাগরিতে ‘নপম ফাউন্ডেশন’ ও ‘অলট্রাস্টিক পিপল’স ইউথ অরগানাইজেশন’; সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ক্যাটাগরিতে ‘উইমেন'স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’ ও ‘ভালো কাজের হোটেল’; জলবায়ু ও পরিবেশ ক্যাটাগরিতে ‘ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড স্নেইক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ ও ‘ইকো-নেটওয়ার্ক গ্লোবাল’; উদ্ভাবন ও যোগাযোগ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ‘ক্লিয়ার কনসেপ্ট’ ও ‘টিম অ্যাটলাস’।

অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ ও ‘খেলা ঘর’ সংগঠনকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের পক্ষে সম্মাননা নেন দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু এবং সহ-অধিনায়ক প্রতাপ শঙ্কর হাজরা।

 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত