গ্যাস সংকট চরমে, বেড়েছে ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি

  গ্রামনগর বার্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ |  আপডেট  : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫২

শীতকাল এলেই রাজধানীতে গ্যাসের চাপ কমে যায়। তার ওপর বুধবার (৭ জানুয়ারি) তুরাগ নদের নিচে পাইপ লাইনের লিকেজের কারণে ঢাকার অনেক এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখে দিয়েছে। এছাড়া জানুয়ারির শুরু থেকে এলপিজির ভয়াবহ সংকট চলছে। সেই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। আর এসব কারণে নগরবাসী এখন ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি শীতের প্রকোপ বাড়ায় বাজারে বেড়েছে শীতকালীন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদাও।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইনডাকশন, ইনভার্টার ও ইনফ্রারেড চুলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চাহিদা এতটাই বেশি যে, অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা এসব পণ্য কিনতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পণ্য স্টক আউট হয়ে গেছে।

তবে লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন শোরুমে মানভেদে এসব পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে আরএফএলের ‘বেস্ট বাই’ শোরুমে দেখা যায়, ভিশনের ইনডাকশন চুলা ৩ হাজার ৭৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। ইনফ্রারেড চুলা, যেখানে যেকোনও ধরনের পাতিল ব্যবহার করা যায় এবং যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সেটির দাম ৪ হাজার ১০০ টাকা।

শোরুমটির সেলস এক্সিকিউটিভ শুভ দাস জানান, বর্তমানে ভিশনের রাইস কুকারের স্টক শেষ হয়ে গেছে। ভিশনের রাইস কুকার লিটারভেদে ৩ হাজার ৭৭০ টাকা থেকে বিভিন্ন দামে পাওয়া যায়। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে মাসে ১০ থেকে ২০টি রাইস কুকার বিক্রি হতো, গ্যাস সংকটের কারণে এখন শতাধিক বিক্রি হচ্ছে। এ কারণেই স্টক শেষ হয়ে গেছে। তবে চাহিদা বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়েনি বলে জানান তিনি।

শীতকালীন পণ্যের মধ্যে ভিশনের ইলেকট্রিক কেটলি ও রুম হিটারেরও চাহিদা বেড়েছে। কেটলির দাম ২ হাজার ৩৯০ টাকা এবং রুম হিটার ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ সময় রুম হিটার কিনতে আসা নাজনীন নামের এক ক্রেতা স্টক না থাকায় ফিরে যান।

শুভ দাস বলেন, শীত বাড়ায় প্রতিদিনই অনেক ক্রেতা এসে পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

বেঙ্গল গ্রুপের ‘হ্যাপি মার্ট’ শোরুমে দেখা গেছে, গাজীর প্রিমিয়াম মানের ইনভার্টার চুলা ৮ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্য একটি ইনডাকশন চুলার দাম ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

শোরুমের এক সেলসম্যান জানান, গ্যাস সংকটের কারণে এসব চুলার বিক্রি শতাধিক ছাড়িয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চাহিদা বাড়লেও দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে জানান তিনি।

গাজীর পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পণ্যের মান ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।

লক্ষ্মীবাজারের ‘র‌্যাং গস ই-মার্টে’ দেখা যায়, ভারতীয় ব্র্যান্ড হ্যাভেলসের ইনডাকশন চুলার দাম ৫ হাজার ৮০০ টাকা। তবুও এর চাহিদা রয়েছে বলে জানান শোরুমে থাকা ক্রেতা আনোয়ার। শীতের কারণে এখানকার রুম হিটারও স্টক আউট হয়ে গেছে। ভারতীয় মিয়াকোর রুম হিটারের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি হলেও সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি জাপানি ব্র্যান্ড প্যানাসনিকের রাইস কুকার ৬ হাজার ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হলেও এর চাহিদা রয়েছে।

এছাড়া গ্যাস সংকট দেখা গেছে ফুটপাতের চায়ের দোকানেও। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার মোর সংলগ্ন কয়েকটি চায়ের দোকানে ইনডাকশন চুলা দিয়ে চা গরম করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এখানকার চা বিক্রেতা সবুজ বলেন, গ্যাস পাওয়াই যায় না। আবার দামও বেশি। ব্যবসা তো চালাতে হবে। এ জন্য ইলেকট্রিক চুলাটা কিনে চা বানাচ্ছি। গ্যাস ঝামেলার পর থেকে এভাবেই চলছি।

ঢাকার নিম্ন আদালত এলাকা রাজার দেউরীতে নিজের বাসায় খাবার রান্না করে বিক্রি করেন রাবেয়া খানম। সিলিন্ডার গ্যাস সংকটের পর থেকে বিড়ম্বনা পোহাচ্ছেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম টিভিতে দেখায় ১ হাজার ৩০০ টাকা, কিনতে গেলে দেখি ২ হাজার ৭০০ টাকা। তাও পাওয়া যায় না। কয়দিন ধরে রান্না করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে।

সৌজন্যেঃ বাংলা ট্রিবিউন 

কা/আ 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত