কড়া নিরাপত্তায় শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ |  আপডেট  : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৭

কড়া নিরাপত্তায় শেষ হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রা-১৪৩৩। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ঘুরে সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা অ্যাকাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে ১০টা ৫ মিনিটে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা ঘিরে ১৪ এপ্রিল ভোর থেকে কড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শোভাযাত্রার সামনে এবং পেছনে পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে রেখেছিল।

‎সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালিদের একটা সাংস্কৃতিক উৎসব। তাই উৎসবটিতে যেন সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারে তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শোভাযাত্রায় নানা বয়সি মানুষের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন মোটিফে সাজানো হয়েছে বর্ষবরণের এ শোভাযাত্রা। এ অনুষ্ঠান ঘিরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নতুন বছরের আগমনে উচ্ছ্বসিত বাঙালি। সূচনা হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের। এদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর রমনার বটমূলে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় মোট ২২টি গান।

এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাঝেই রমনার বটমূলে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। তাদের কাছে এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং শেকড়ে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ। সেখানে জীর্ণতা ঘুচিয়ে নতুনের আহ্বানে নববর্ষকে স্বাগত জানায় সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে এ পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে উৎসবে মেতে উঠেছে সারা দেশ। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, গ্লানি আর শোককে বিদায় জানিয়ে ঋতুচক্রের এই নবায়ন বয়ে এনেছে নতুন আশার আলো। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে পহেলা বৈশাখ আজ পরিণত হয়েছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মোহনায়।

বর্ষবরণের এই আয়োজন শেষ হয় সম্মেলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্যে দিয়ে। পরে সকাল ৯টার দিকে ঢাবির চারুকলা থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হলো পাঁচটি বিশেষ মোটিফ–মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই পাঁচটি উপাদান যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক।

বাঁশ, কাঠ আর রঙিন কাগজের কারুকার্যে তৈরি বিশাল প্রতিকৃতিগুলো যেন অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় ভবিষ্যতের জয়গান গাইছে। শোভাযাত্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করবেন এবং ৩৫ জন যন্ত্রশিল্পীর বাঁশি ও দোতারার সুরে বেজে উঠবে ‘এসো হে বৈশাখ’।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত