বিশুদ্ধ পানির সংকট হলেও কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শক
কাউনিয়া উপজেলা ক্যাম্পাসে একমাত্র নলকুপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪১ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৪
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলসহ উপজেলা ক্যাম্পাসে ক্রমেই নিচে নামছে সুপেয় পানির স্তর। বিশুদ্ধ পানির অভাবে পেটের পিরাসহ নানা রোগের প্রদূর্ভার বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সাথে আরসেনিক যুক্ত পানি পান করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রন্ত হচ্ছে অসচেতন সাধারন মানুষ। দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানাগেছে অধিকাংশ গ্রামে নলকুপের মাধ্যমে সুপেয় পানির স্তর দিন দিন নেমে যাচ্ছে। গ্রামবাসী জানান আগে ৩০ থেকে ৫০ ফিট গভিরতায় সুপেয় পানি পাওয়া যেত এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত সময়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর থেকে পানি পরীক্ষা করা হতো তা কতবছর ধরে বন্ধ রয়েছে তা অনেকেই মনে করতে পাচ্ছে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শক। পানি পরীক্ষা না করায় আয়রন ও আরসেনিক বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই কাউনিয়ায় চরাঞ্চল ও সমতল সব জায়গায় সুপেয় পানির সংকট প্রকট হচ্ছে। উপজেলার ৮৫টি গ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় ভ‚-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। সরকারি যেসব নলকূপ রয়েছে তার প্রায় সবগুলোই অকেজো। উপজেলা ক্যাম্পাসে বিআরডিবি অফিসের সামনে একটি মাত্র নলকূপ সেটিও নষ্ট দীর্ঘদিন ধরে। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে উপজেলায় সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষের। সেই সাথে আরসেনিক নিয়ে চরম দুঃচিন্তায় তিস্তার চরাঞ্চলবেষ্টি গ্রামের মানুষ গুলো। উপজেলায় ভ‚-গর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর পেতে যেতে হচ্ছে কমপক্ষে ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে। গত কয়েক বছরে ভ‚-গর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর ১০ থেকে ১৫ ফুট নিচে নেমেছে। ভ‚-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তোলা, এলাকার ডোবা-নালা পুকুর-খাল-বিল ভরাটের ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, এলাকায় পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলোও ক্রমেই শূন্য হয়ে পড়ছে। এতে একদিকে গৃহস্থালির কাজে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বোরো চাষে পানির সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তিস্তা নদী বেষ্টিত উপজেলায় অথৈ পানি থাকার পরেও বিশুদ্ধ পানির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনেকেই অতিমাত্রায় আয়রন ও আরসেনিক যুক্ত পানি পান করে আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে। উপজেলা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র নলক‚পটি নষ্ট থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশি হাজারো মানুষ। উপজেলায় একমাত্র কার্যকর নলক‚পটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে থাকায় পানি সংগ্রহের কোনো উপায় নেই। স্থানীয় মানুষ বাধ্য হয়ে অনিরাপদ পানি ব্যবহার করছেন, যা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তিতে নলকূপ গুলো মেরামতের প্রয়োজন। বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে দ্রæত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। অনেকে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দ্রæত নলক‚প গুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত