এমপি মোশারফ হোসেনের সহযোগিতায় ভারতে আটকে পড়া নন্দীগ্রামের ২৮ শ্রমিক দেশে ফিরেছে
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৮ জুন ২০২৬, ১৬:৪৬ | আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১
দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক পড়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ শ্রমিক দীর্ঘ ১৭ মাস পর দেশে ফিরেছেন। গত ২৭ মে তাঁরা যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। তাঁদের দীর্ঘদিন কারাভোগ ও বন্দিদশার অবসান হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। দেশে ফেরা শ্রমিকরা নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী, দোহার, তেঘরী, দাসগ্রাম এবং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভাটগ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে কহুলী গ্রামের রানা আহমেদ (৩০), আতিকুল ইসলাম (২৮), ফারুক হোসেন (৩০), ফিরোজ হোসেন (২১) ও তেঘরী গ্রামের সেলিম হোসেন (২৭) রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে এসব শ্রমিক দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের তামিলনাড়ুর একটি হোটেল থেকে সিআইডি তাঁদের আটক করে। পরবর্তীতে তাঁদের তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহরের পুঝাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁরা ১৪ মাস কারাভোগ করেন। কারামুক্তির পর আরও তিন মাস একটি কেন্দ্রে অবস্থান করতে হয় তাঁদের। সবমিলিয়ে প্রায় ১৭ মাস তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।
ওইসব শ্রমিকদের স্বজনরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের দেশে ফেরার খবরে পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত ৪ এপ্রিল বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গত ২৭ মে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তাঁরা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর শনিবার সকালে ওইসব শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। এ সময় তাঁদের সুখ-দুঃখের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনেন তিনি। দেশে ফেরত রাজু আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ মাস অনেক কষ্ট করেছি। এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় আমরা দেশে ফিরতে পেরে খুবই আনন্দিত। বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, বিদেশে আটকাপড়া এসব শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। অবশেষে আমাদের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেনের চেষ্টায় তাঁরা দেশে ফিরতে পেরেছেন, যা স্বজনদের জন্য স্বস্তির বিষয়। ভবিষ্যতে কেউ যেনো দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে না যান, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেনো দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার আগেই ভারতে আটকেপড়া শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তাদের সহযোগিতায় সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত