ঈদের আগে প্রবাসী আয়ে চাঙা রিজার্ভ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ১৭:৫৯ | আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৭
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি ব্যয় মেটাতে রেমিট্যান্স বাড়ায় মার্চের প্রথমার্ধেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে; যা রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ থাকে, সেটিই প্রকৃত সক্ষমতার নির্দেশক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার; যা দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতে রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য অংশ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমানো, হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে ফিরে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদ উপলক্ষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে; যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করলেও পরবর্তী সময়ে নানা কারণে তা কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম-৬ হিসাবে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২০ টাকার ওপরে উঠে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।
পরবর্তী সময়ে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার উদ্যোগ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স; যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে; যা রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ কম ছিল; যা রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করেছে। তবে সামনে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়লে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধি পাবে এবং ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে।
তাদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রফতানি আয় বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে ডলার সংকট বড় আকার ধারণ করবে না; বরং বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত