অভাবের কারণে মেয়েকে হত্যার পর ব্লেড খেয়ে বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৭ |  আপডেট  : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪২

গাজীপুরের কাশিমপুরে ৮ বছর বয়সী শিশু সন্তান তামান্নাকে [ ৮]  বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে তারই বাবা। এসময় তরিকুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে হত্যার পর নিজেও ব্লেড গিলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। শনিবার [২১ জানুয়ারি] বিকালে মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন পূর্ব এনায়েতপুর [সবুজ কানন] এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ [জিএমপি’র] কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক [এসআই] নাহিদ আল রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ইসলাম তরিকুল ইসলাম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত শিশুটির মা নাদিরা আক্তার জানান, গত তিন সপ্তাহ আগে কাজের সন্ধানে দিনাজপরের গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরে আসেন তরিকুল ইসলাম। কাশিমপুর থানাধীন পূর্ব এনায়েতপুরের সবুজ কানন এলাকার ভাড়া বাসায় উঠে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি নেন তরিকুল ও স্ত্রী নাদিরা। পারিবারিক অভাব অনটন নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিল তরিকুল। 


ঘটনার পর পুলিশ তরিকুলকে আটক করেছে। পুলিশি হেফাজতেই সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই শিশুটি ছাড়াও তাদের সাড়ে তিন বছর বয়সী আরেকটি সন্তান গ্রামের বাড়িতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন


ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাদিরা আক্তার জানান, তামান্নাকে বাসায় রেখে শনিবার দিসি কর্মস্থলে যান, তবে তার স্বামী কর্মস্থলে যায়নি। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দুপুরে তরিকুল বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তামান্নাকে হত্যা করে। পরে সে নিজেও ব্লেডের টুকরো গিলে খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে।

এসময় গুরুতর আহতাবস্থায় শিশুর ঘাতক তরিকুলকে আটক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ সন্ধ্যায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এসআই নাহিদ আল রেজা আরও জানান, তরিকুল ব্লেড গিলে খাওয়ায় কথা বলতে পারছে না। তবে হাত দিয়ে লিখে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত