হাইকোর্টের আদেশ অমান্য ভুয়া কাগজে শিক্ষা প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগঃ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  মাহমুদুর রহমান(তুরান)

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৩৬ |  আপডেট  : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০:৩১

সারা দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ন্যায় ফরিদপু সদর এবং ভাঙ্গা উপজেলায় আউট অব চিলড্রেন(পিইডিপি-৪) কর্মসূচী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও এনজিওর মাধ্যমে ভুয়া কাগজে শিক্ষা প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাজে অংশ নেওয়া কয়েকটি প্রতিযোগী বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্তে দুর্নীতি প্রকাশের পর কাজ সাময়িক বন্ধ এবং এক পর্যায়ে বিজ্ঞ মহামান্য হাইকোর্ট কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিলেও রহস্যজনক কারনে একটি প্রতিষ্ঠান কাজের বিল উত্তোলন করে আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভাঙ্গা হাইলাইট ফাউন্ডেশন। গতকাল বিকেলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ন্যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি উপজেলায় সংস্থা ও এনজিওর মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আহবান করা হয়।

এতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কিছু শর্ত পুরনের মাধ্যমে কাজ পাবার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যাংক সলভেন্সী চাইলে ‘‘এসো জাতি গড়ি’’(এজাগ) নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান ভূয়া সলভেন্সী দাখিল করে প্রকল্পের কাজটি হাতিয়ে নেয়। কিন্ত তদন্তে প্রমানিত হয় প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট ২৫ লক্ষ টাকা দাখিল করলেও দেখা যায় ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা। বিষয়টি নিয়ে হাইলাইট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম তৎকালীন প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মহা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ এবং পরবর্তিতে আতাউর রহমান বরাবর অভিযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যংক হিসাব চাইলে তাতে তদন্তে দেখা যায় ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা। এ নিয়ে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারী এজাগের মহাপরিচালক নাজমা আক্তারকে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বললে পাঠানো তথ্যে শর্তানুসারে ব্যাংক হিসেবে চাহিদাপ্রাপ্ত টাকা ব্যাংকে স্থিতিবস্থা ছিলনা,যা শর্তের পরিপহ্নি। কিন্ত অনিয়ম সত্যেও রহস্যজনক কারনে কাজটি চলমান থাকে। পরে মোঃ শহিদুল ইসলাম মহামান্য হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট পিটিশন দাখিল করলে মহামান্য তা স্থগিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্ত এ নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ণ বিধিবহির্ভুতভাবে কাজটির কার্যক্রম চালিয়ে যায় এবং বিল উত্তোলন করে। তিনি আরও দাবী করেন সংস্থাটি কার্যক্রম চালুর জন্য ভাঙ্গায় কয়েকটি পার্টারশিপ দ্বারা ৭৭টি শাখা পরিচালিত করে প্রায় ৪ কোটিরও বেশী টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নিয়েছে। এতে সরকারের নেয়া জনস্বার্থকর শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে । তিনি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্বে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খোন্দকার নাজমুল হাসান,নিয়ামুল হোসেন সৌরভ,বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত