কাউনিয়া মানাস নদীতে পানি নেই,শতশত হেক্টর জমিতে ধান চাষ
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০২ | আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৯
মানাস নদী তিস্তা নদীর একটি শাখা নদী হিসেবে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ কুড়িপাড়া গ্রাম থেকে উৎপত্তি হয়ে রংপুরের গঙ্গাচরা, কাউনিয়া, পীরগাছা এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর হয়ে যমুনায় মিলিত হয়েছে। মানাস নদীটি রংপুরের গংগাচরার লক্ষীটারী, গজঘন্টা, মর্নেয়া এবং কাউনিয়া উপজেলার সারাই, হারাগাছ, কুর্শা, শহীদবাগ, বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়ন হয়ে পীরগাছার অন্নদানগর ও কান্দি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গাইবান্ধায় যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। সেই মানাস নদীতে এখন পানি নেই। নদী জুরে এখন চাষ হচ্ছে ধান আর ধান।
সরেজমিনে কাউনিয়ায় মানস নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে উৎপত্তি স্থল থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত শতশত হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে হারাগাছ থেকে শুরু করে টেপামধুপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত মানাস নদীর বুকে যে ধান চাষ হয়েছে তাতে করে হাজার হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা এলাকার চাষিদের। মানাস নদীর ধান দিয়ে এলাকার মানুষের অর্ধেক চাহিদা পুরন হয়। এক সময়ের খর¯্রতা মানাস নদীতে বড়বড় নৌকা চলতো সেই নদীতে চলতি বোরো মৌসুমে নদীর বুক জুরে বিস্তীর্ণ জমিতে ধান চাষ হয়েছে। নদীর নাব্যতা হারিয়ে নদীটি এখন ফসলের মাঠে পরিনত হয়েছে। মানাস নদী ঘিরে এক সময় হাজার হাজার মৎস্যজীবী তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। বছরের পর বছর ধরে নদীতে পানি না থাকায় তারা জীবন বাঁচাতে মৎস্যজীবী পেশা ছেরে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। মানস নদী তিস্তার একটি শাখা, এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩৩ কিঃমিঃ। পঞ্চাশ দশকের আগে নদীটি পলি পরে গতি পথ হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে ইহা উচু এলাকার পানি নিস্কাসনের এক মাত্র মাধ্যম। তবে ঘাঘট নদীর পানি অতিরিক্ত প্লাবিত হলে এই মানস নদী প্লাবিত হয়। গত বছর বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নদী খননের নামে লাখ লাখ টাকা ব্যায় করেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাঝখান থেকে সরকারের অর্থ জলে গেছে। নদী পাড়ের মানুষের দাবী মানাস নদী প্রকৃত সীমানা নির্ধারন করে আধুনিক প্রযুক্তিগত ভাবে খনন করলে নদী নাব্যতা আবার ফিরে পারে। সেই সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাবে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকারের খাল খননের উদ্যোগ গ্রহন করেছে, সেই খাল খননের আতায় মানস নদীকে এনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ধান চাষে অধিক পরিমান ভুগর্ভস্ত পানি ব্যবহারের ফলে একসময় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এখনই নদী খননের ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘চাষযোগ্য জমি অনাবাদি ফেলে রাখা যাবে না। জমির শ্রেণি অনুযায়ী ফসল উৎপাদন করতে হবে। নদী খননের বিষয়ে জেলা পর্যায়ে মিটিং এ উপস্থাপন করবো। মানাস নদী খনন করতে পারলে প্রাকৃতিক ভাবে দেশী মাছের উৎপাদন বারবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত