সাম্প্রদায়িক হামলা হয় জমি জেরাতের লোভে, বন্ধ করা প্রয়োজন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২১, ১১:৪৫ |  আপডেট  : ২১ মে ২০২৪, ১০:৩৫

সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা থেমে নেই। গত শনিবার সন্ধ্যায় খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালি গ্রামে কয়েকটি মন্দির, বেশ কিছু দোকান ও একটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার রাতেই হামলার ঘটনায় একটি মামলার পর এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটিতে কাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে- তা স্পষ্ট করেনি পুলিশ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদে নামাজ চলার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের ‘গান-বাজনা’ করছিলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এতে ভুল বোঝাবুঝি হয়। ওই দ্বন্দ্বের সমাধান সেদিনই হয়ে গিয়েছিল এবং ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে শনিবারের হামলার সম্পর্ক নেই।

এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংখ্যালঘু এক পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উৎখাতের হুমকি দিচ্ছে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী। এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। লক্ষণীয় ব্যাপার হামলার ঘটনা যেখানেই হোক না কেন- এর ধরন একই। সবক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কদর্য রূপ একই। সেটা হোক খুলনার রূপসা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সুনামগঞ্জের শাল্লা কিংবা রংপুরের গঙ্গাচাড়া। সব জায়গাতেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির ভাঙচুর করা হয়, দোকান বা বসত বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়। একটি এলাকার পুরো সম্প্রদায়ের উপরই হামলা চালানো হয়, নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য থাকে ধর্মের ধুয়া তুলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন ও ধর্মের ওপর আঘাত হানা, তাদের সম্পদ লুট করা। এই অপশক্তি দীর্ঘদিন ধরে দেশে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। তাদের উন্মত্ততা চরম আকার ধারণ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্ম অবমাননার গুজব তুলেও তারা সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে। সবগুলো হামলার কৌশল প্রায় একই রকমের।
 
যখন যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাদের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। বরং বিভিন্ন সময় উগ্রগোষ্ঠীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে বলে সরকারগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভোটের রাজনীতির কারণে দেশের সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয় না। সাম্প্রায়িক হামলার বিচার করে দোষীদের সাজা দেয়া হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। এসব হামলার নেপেথ্যে যারা কল-কাঠি নাড়ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এজন্য জরুরি হচ্ছে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আমরা আশা করব, খুলনার রূপসায় ও ঢাকার কেরানীগঞ্জে যে সাম্প্রদায়িক হামলা ও হুমকির যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত