লৌহমানবী শেখ হাসিনা - কাজী ছাব্বীর

  কাজী ছাব্বীর

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১১:৪২ |  আপডেট  : ২০ মে ২০২৪, ১৮:৩৮

অতীত ইতিহাস বৃটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক সংস্কারের জন্য আয়রন লেডী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। টানা ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন জার্মানির অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। বাংলাদেশের পরম বন্ধু বৃহত গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে স্বীকৃত ভারতের ইন্ধিরা গান্ধী ক্ষমতায় ছিলেন একধারে প্রায় ১৫ বছর। অতীতের সকল ইতিহাসের রেকর্ড ভঙ্গ করে ইতিমধ্যে চারবারে বিশ বছর ক্ষমতায় থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ৫ম বারের মত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথের মাধ্যমে বিশ্ববাসী দেখতে পেল লৌহমানবী শেখ হাসিনাকে।  
দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক কৌশল ও বুদ্ধিমত্তায় তাঁর সমকক্ষ দেশে আর কেউ নেই সেটা আবারো প্রমাণ করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বহুমাত্রিক স্মার্ট নেতৃত্বগুণ আবারও প্রত্যক্ষ করলো বিশ্ব ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে। জাদুকরী নেতৃত্বের গুণে টানা চতুর্থবারসহ মোট পঞ্চমবারের মতো নিজ দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নেওয়ার সাফল্য দেখালেন। নিজেও টানা চতুর্থবার ও মোট পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন মহান স্বাধীনতার স্থপতি,স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। এত দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার মসনদে টিকিয়ে থাকার এক নজিরবীহিন ইতিহাস।

শুধু রাষ্ট্রনায়কই নন বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকায়ও রয়েছেন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী এই প্রধানমন্ত্রীর নাম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পৃথিবী বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনে ২০২৩ সালের প্রকাশিত জরিপে  বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় প্রকাশিত শীর্ষস্থানে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম।

শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে দেশী বিদেশী সকল গভীর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২২৫টিতে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক। শেখ হাসিনার চৌকষ নেতৃত্বে এটি সম্ভব হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী ৬২টি আসনের সাংসদগণও শেখ হাসিনারই আস্থাভাজন। বাকি ১৩টি আসনে কয়েকটি দলের প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোটে। ভূ—রাজনৈতিক বিবেচনায়  এবারের নির্বাচন শেখ হাসিনার জন্য ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তিনি শক্তহাতে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পরিসরে একটি সাহসী ও শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করেছেন।

বিএনপি—জামায়াতসহ কয়েকটি ছোট ছোট সমমনা দল এই নির্বাচন বয়কট ও প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। হরতাল অবরোধসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাস, ট্রেন এবং ভোটকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে ভোটারদের মধ্যে ভয়—ভীতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে দেশের মানুষদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার প্রত্যাশা শুধু বিফলই হয়নি, ব্যার্থও হয়েছে বটে।  
বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বয়কট, লাগাতার অবরোধ, হরতাল, নাশকতা ও প্রতিরোধের মুখে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের কৌশলী কর্মকাণ্ডের কাছে  সকল ষড়যন্ত্রই ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়। দলীয় প্রতীকে প্রার্থীর পাশাপাশি নিজ দলের নেতা—কর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাটি ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উধার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মনোভাবের বহি:প্রকাশ। এতে কতিপয় মন্ত্রী, এমপিদের দাম্ভিকতার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে হেভিওয়েট  প্রার্থীদের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো অনায়াসে। যাহা নিজ দলের ভিতরে, বাহিরে এবং বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করলো শেখ হাসিনা। বিচ্ছিন্ন গুটিকয়েক ঘটনা ছাড়া এই কৌশলের মাধ্যমে দেশব্যাপী কেন্দ্রগুলিতে ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গণভবনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করার কৌশল হিসাবে মনোনয়ন বঞ্চিতদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি উন্মুক্ত করে দেন তিনি। ফলে নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় বরণ করার এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন সংযোজন:
নির্বাচন নিয়ে কবি সাহিত্যিকগণ সম্মিলিত বা সাংগঠনিক ভাবে কোন দলের পক্ষে এভাবে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি অতীতে। নির্বাচনের ২ দিন আগে ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সাহিত্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদ কর্তৃক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে, গণতন্ত্র ও  চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা  অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্ব আরোপ  করে, দুর্নীতি মুক্ত দেশ গঠনে দল—মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশে আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে। যানজটমুক্ত হয়ে নির্বিঘ্নে যথা সময়ে জনগণের চলাচলের পথ সুগম করতে ঢাকা টু চট্টগ্রাম চার লেনের মহাসড়ক, পদ্মাসেতু নির্মাণ, মেট্টোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলি নদীর তলদেশ থেকে সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভারসহ রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। কৃষি খাতে উন্নয়ন,বিদ্যুৎ ব্যবহারে আধুনিকায়ন, আধুনিক বিমানবন্দর, মানবসম্পদসহ প্রভৃতি খাতে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে। অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপও প্রশংসনীয়। শক্ত হাতে জঙ্গীবাদ নির্মূল, রোহিঙ্গা পুনর্বাসন,  প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। ফলে একটি  মহল শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক  কর্মকাণ্ডের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে  ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে, গণ—মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরোৎসাহিত করছে। সরকার পরিবর্তন বা নির্বাচন  বিতর্কিত হলে চলমান উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা  রয়েছে।

তাই কোন ব্যক্তি বা পরিবার বা দলের স্বার্থে নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে, সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহবানে দেশের সকল কবি সাহিত্যিকদেরকে  প্রত্যেকের ভাই—বোন, পাড়া—পড়ঁশি, আত্মীয়—স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ঐক্যবদ্ধভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহবান জানানো হয়।  জাতীয় সাহিত্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদের উপদেষ্টা  কবি মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন,  সংগঠনের  প্রধান সমন্বয়ক কবি ও কলামিস্ট কাজী ছাব্বীর,  মুখপাত্র  কবি নীলা মল্লিক, সিনিয়র সমন্বয়ক কবি সাজেদা ডুলু,  আরিফুজ্জামান জুলহাসসহ সংগঠনের নেতৃনেতৃবৃন্দ  কবি—সাহিত্যিকদের প্রতি এই আহবান জানান।
শেখ হাসিনা গত ১৫ বছরে বাংলাদেশরে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন। বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিরংকুশ জয়ের মাধ্যমে শুরু হয় দেশব্যাপী উন্নয়ন কর্মকান্ড। এরপর টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জন—প্রত্যাশিত উন্নয়ন করে শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এবার থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদীর মূল্যের উর্ধŸগতি রোধ, আর্থিক খাতের অনিয়ম ও ঘুষ, দুর্ণীতি বন্ধ করে এবং অর্থপাচার রোধে সক্ষমতা দেখাতে পারলেই অতীতের ছোটখাটো বদনাম গুলো গুচানো সম্ভব হবে। সংগতকারণে সরকার বিরোধীদের গলাবাজি চিরতরে বন্ধ হবে। ইতিমধ্যে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, জিডিপি বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট প্রসস্থকরণ, নতুন রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষা, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিকরণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানী পোশাকখাতে উন্নয়ন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আরো কঠোরহস্তে অনিয়ম বন্ধ ও চিকিৎসা সেবায় আরো গতিশীল এবং সহযোগী মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে সরকারকে।  
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, নারীর ক্ষমতায়ন, সরকারি পরিসেবায় আধুনিকায়নসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। ১৯৭১ সনে স্বাধীনতার যুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে মহান বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি গভীর ষড়যন্ত্র করে আসছে। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন সময়ে অন্তত:পক্ষে ২১ বার তাকে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। দেশের মানুষের ভালবাসায় মহান আল্লাহপাকের খাস রহমতের বদৌলতে দেশের মানুষের কল্যাণে আল্লাহপাক তাকে বাচিঁয়ে রেখেছেন।  
 দেশী—বিদেশী গভীর ষড়যন্ত্র কৌশলে মোকাবেলা করে ৭ই জানুয়ারি ২০২৪, কোন রকমের সংঘাত ছাড়াই একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হয়েছেন সরকার। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে ব্যাপক ভাবে। ভোটাধিকার প্রয়োগে সহজ নিয়ম, ঢাকা এবং ঢাকার বাহিরেও ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি সন্তোষজনক মতামত ব্যাক্ত করে বিদেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা সরকারের প্রংসায় পঞ্চমুখ।    নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণ শেষে কানাডিয়ান হাউজ অব কমেনন্স এর সদস্য ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক চন্দ্রকান্ত আরিয়া ও সিনেটর ভিক্টর ওহ নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরে সুষ্ঠু নিবার্চন অনুষ্ঠান বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্তমান স্বীকৃত বিএনপি। নির্বাচন বিষয়ে তাদের মনগড়া মত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বরাবরই হেরে যাচ্ছে একাধিকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দল বিএনপি। দেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা দলমত নির্বিশেষে হিংসা বিদ্বেষের উর্ধ্বে থেকে অতীতের ভুলভ্রান্তি ও রটে যাওয়া দুর্নাম গুচিয়ে দেশের কল্যাণে সকল প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হবেন পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী লৌহমানবী শেখ হাসিনা।

লেখক: কবি, ঔপন্যাসিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক কর্মী

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত