রমজানে বরগুনায় নিত্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী, স্বস্তিতে ভোক্তারা
হিমাদ্রি শেখর কেশব, বরগুনা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ | আপডেট : ৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৫১
পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে বরগুনা জেলা শহরের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রমজানের আগে ধাপে ধাপে বেড়ে যাওয়া শাকসবজি, ডিম ও মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বর্তমানে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
গত এক থেকে দেড় মাস ধরে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল। ভবে রমজান শুরুর পর বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারে পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম কমেছে।
শহরের প্রধান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসাসহ প্রায় সব ধরনের কাঁচা পণ্যের দাম কমেছে। আগে যে ফুলকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ১১০ টাকার শসা নেমে এসেছে ৭০ টাকায়, ৮০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকায় এবং কাঁচকলার হালি ৬০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৩০ টাকায়।
মুরগি ও ডিমের বাজারেও এসেছে স্বস্তি। রমজান রুম্ম সঙ্গে সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় উঠলেও বর্তমানে তা কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগির দাম ৩৩০ টাকা থেকে কমে প্রায় ৩০০ টাকায় নেমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে ডিমের দাম। রমজানের আগে ১৪৮ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া লেয়ার মুরগির ডিম বর্তমানে ৯৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, উৎপাদনকারীদের কাছে মুরগির সরবরাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে দাম বেশি থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে দামের সমন্বয় ঘটেছে।
তবে চালের বাজার এখনো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। খুচরা বাজারে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৭৮ টাকা, পাইজাম ৪২ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা ৪০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বোরো মৌসুমে নতুন ধান বাজারে এলে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।
পেঁয়াজের বাজার দীর্ঘদিন পর স্থিতিশীল রয়েছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানিকৃত (এলসি) রসুন ১৬০ টাকা এবং আদা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, চায়না রসুনের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে এবং সামনে আরও বাড়তে পারে।
ভোক্তারা বলছেন, রমজানকে সামনে রেখে মূল্যবৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। তবে এবারের রমজানে শাকসবজির এমন নিম্নমুখী বাজার তারা আগে দেখেননি। ক্রেতা মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যথাযথভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন করেন না। ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভোক্তা অধিকার সংস্থার তদারকি শুরু হলে দাম কম দেখানো হয়, আয় তদারকি শেষ হলে আবার আগের দামে বিক্রি করা হয়।
ভোক্তাদের দাবি, রমজান উপলক্ষে বাজার তদারকি জোরদার ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত বলা হলে সাধারণ মানুষ আরও স্বস্তি পাবে।
কা/আ
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত